দৌলতপুরে ভুয়া চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় তরুণের মাড়িতে সংক্রমণ, থানায় অভিযোগ

দৌলতপুর প্রতিনিধিঃ মোঃ হারুন অর রশীদ
৩০ আগস্ট, ২০২৬ ৫:৪১ পিএম
শেয়ার করুন:
দৌলতপুরে ভুয়া চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় তরুণের মাড়িতে সংক্রমণ, থানায় অভিযোগ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে এক তরুণের দাঁতের ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে মো. দবির নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুল চিকিৎসায় দাঁতের মাড়িতে তীব্র সংক্রমণ (ইনফেকশন) ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগী তরুণকে দফায় দফায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দাবি ও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দৌলতপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীর বাবা মো. আমজাদ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আমজাদের ২০ বছর বয়সী ছেলে মো. আশিক বেশ কিছুদিন ধরে দাঁতের সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ১০ আগস্ট সকালে আশিককে নিয়ে দৌলতপুর থানা বাজারে মো. দবিরের দোকানে যান তাঁর বাবা। সেখানে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে আশিকের মুখ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন দবির এবং একটি দাঁত তুলে ফেলার পরামর্শ দেন।

ভুক্তভোগীর বাবার দাবি, অভিযুক্তের কথায় আস্থা রেখে তাঁরা দাঁত তুলতে সম্মতি দেন। কিন্তু দবির সমস্যাযুক্ত দাঁতটি না তুলে ভুলবশত পাশের একটি সম্পূর্ণ সুস্থ দাঁত তুলে ফেলেন। এর পরপরই আশিকের মাড়িতে তীব্র সংক্রমণ দেখা দেয় এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে।

পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রথমে আশিককে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও অবস্থার উন্নতি না হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে পরিবারের সদস্যরা আশিককে দ্রুত রাজশাহীতে নিয়ে যান। পরবর্তীতে রাজশাহীর রয়্যাল হাসপাতাল (প্রা.) লিমিটেডে আশিকের মাড়িতে অস্ত্রোপচার (অপারেশন) করা হয় এবং দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, কথিত চিকিৎসকের এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজের কারণে তরুণের শারীরিক ভোগান্তির পাশাপাশি পরিবারটি আর্থিকভাবেও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। আশিকের চিকিৎসায় এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে পরামর্শের কারণে থানায় লিখিত অভিযোগ জানাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগকারী মো. আমজাদ বলেন, “চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে আমার ছেলের সুস্থ দাঁত তুলে ফেলা হয়েছে। এতে আমার ছেলে যেমন অবর্ণনীয় শারীরিক কষ্টে ভুগেছে, তেমনই আমাদের পরিবার বিপুল আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।”

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।