রংপুরে চার খুন: আসামিদের পক্ষে লড়বেন না জেলা বারের আইনজীবীরা

অনলাইন ডেস্কঃ
২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১:১৮ পিএম
শেয়ার করুন:
রংপুরে চার খুন: আসামিদের পক্ষে লড়বেন না জেলা বারের আইনজীবীরা

রংপুর নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিদের কোনো ধরনের আইনি সহায়তা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতি। 

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে জেলা আইনজীবী সমিতি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী আফতাব উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আফতাব উদ্দিন বলেন, "আমরা চাই প্রকৃত দোষীরা যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়। এ ঘটনাকে কোনোভাবেই রাজনীতিকরণ করা উচিত নয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে না, তাই তদন্তের স্বার্থে আমাদের আরও কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, "জনমনে প্রায়ই অভিযোগ ওঠে যে আইনজীবীরা অর্থের বিনিময়ে যেকোনো আসামির পক্ষে দাঁড়ান। এই ভুল ধারণা দূর করতেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি—আপাতত এই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত কোনো আসামির পক্ষে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা আইনি লড়াইয়ে অংশ নেবেন না। পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত এক-দুই সপ্তাহ থেকে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে।"

আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিহত গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের পক্ষে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে আইনজীবীরা প্রয়োজনে হাইকোর্ট পর্যন্ত সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আইনজীবী মাহফুজ উন নবী চৌধুরী (ডন)-সহ জেলা আইনজীবী সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার পটভূমি:
উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৩ আগস্ট) রাতে নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ার নিজ বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী এবং ছেলে আয়ুস চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় পরদিন রোববার নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই দিনই পুলিশ সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি (১৬৪ ধারা) দেয়। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

চাঞ্চল্যকর এই চার খুনের মামলার তদন্তভার সম্প্রতি কোতোয়ালি থানা থেকে গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক (ওসি) জিনাত আলী মামলাটি তদন্ত করছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।