থানচিতে প্রান্তিক পেশাজীবীদের দক্ষতা ও জীবনমান উন্নয়নে ১০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু

অনুপম মারমা, থানচি প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ
২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১:৪৩ পিএম
শেয়ার করুন:
থানচিতে প্রান্তিক পেশাজীবীদের দক্ষতা ও জীবনমান উন্নয়নে ১০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু

বান্দরবানের থানচি উপজেলায় অনগ্রসর ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই জীবনমান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ‘বাংলাদেশের প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)’-এর আওতায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মশালার উদ্বোধন করেন নোয়াখালী জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এবং কোর্সের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রশিক্ষক জেড এম মিজানুর রহমান খান। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সত্যজিৎ মজুমদার, থানচি প্রেস ক্লাবের সভাপতি মংবোওয়াংচিং মারমা অনুপম এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের সুপারভাইজার মো. আমীর হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেড এম মিজানুর রহমান খান বলেন, “প্রান্তিক পেশাজীবীরা আমাদের অর্থনীতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আয় বাড়ানো এবং ঐতিহ্যবাহী পেশাগুলোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার সুযোগ তৈরি হবে। সরকারি এসব সুযোগ-সুবিধা ও প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাবলম্বী হওয়া প্রয়োজন।”

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, “পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করাই সরকারের এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের পেশাগত দক্ষতা ও আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক মর্যাদা এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে এ ধরনের জনকল্যাণমুখী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার বলেন, “আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং উপকরণ ও বাজারজাতকরণের সহায়তা পেলে প্রান্তিক পেশাজীবীরা প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে পারবেন। এতে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও তাঁদের পারিবারিক আয় বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।”

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা, বেকারত্ব দূরীকরণ ও আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চলমান এই কর্মশালায় নকশিকাঁথা প্রস্তুতকারী, কামার, কুমার, নাপিত, কাঠমিস্ত্রি, জুতা মেরামতকারী এবং বাঁশ ও বেত শিল্পের কারিগরসহ বিভিন্ন পেশার শতাধিক নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন। 

প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া পেশাজীবীরা আনন্দ প্রকাশ করে জানান, সনাতনী পদ্ধতির বাইরে আধুনিক কাজের কৌশল ও বাজারমুখী দক্ষতা অর্জনের এই সুযোগ তাঁদের জীবিকা নির্বাহ ও জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।