আলফাডাঙ্গায় মেয়াদ শেষ হলেও সরকারি মোটরসাইকেল ব্যবহার

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
২৮ আগস্ট, ২০২৬ ১১:০০ এএম
শেয়ার করুন:
আলফাডাঙ্গায় মেয়াদ শেষ হলেও সরকারি মোটরসাইকেল ব্যবহার

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি)-এর মেয়াদ শেষ হলেও সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। প্রকল্পের প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে প্রকল্পের সরকারি মোটরসাইকেল ব্যবহার অব্যাহত রাখা, নিয়মিত দপ্তরে অবস্থান এবং সেবাগ্রহীতাদের নিজের ব্যক্তিগত চেম্বারে পাঠিয়ে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত এলডিডিপি প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি শুরু হয়। কয়েক দফা মেয়াদ বৃদ্ধির পর প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক মেয়াদ শেষ হয়। পরবর্তীতে ৩০ জুন প্রকল্পের চূড়ান্ত প্রতিবেদনও হস্তান্তর করা হয়। ডা. মো. আব্দুস সালাম ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর আলফাডাঙ্গায় সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষ হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিয়মিত সরকারি দপ্তরে আসছেন এবং সরকারি মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করছেন। 

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে গিয়ে ডা. মো. আব্দুস সালামকে নির্ধারিত কক্ষে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। এ সময় কার্যালয়ের বাইরে তাঁর ব্যবহৃত সরকারি মোটরসাইকেলটি পার্ক করা অবস্থায় পাওয়া যায়। 

এদিকে সরকারি দপ্তরের মূল ফটকের ঠিক সামনেই ‘আলফাডাঙ্গা ভেট কেয়ার প্লাস’ নামে একটি ব্যক্তিগত চেম্বার পরিচালনা করছেন ডা. আব্দুস সালাম। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সেবা নিতে আসা খামারি ও সাধারণ পশু মালিকদের নানা কৌশলে তিনি নিজের ব্যক্তিগত চেম্বারে যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং সেখানে তাঁদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন। 

ভুক্তভোগী পৌর এলাকার কুসুমদি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন, মোহাম্মদ আলী এবং নাওয়াপাড়া গ্রামের কামরুজ্জামান বলেন, “আমরা সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে গেলে কর্মকর্তা আমাদের তাঁর ব্যক্তিগত চেম্বারে যেতে বলেন। সেখানে গেলে মোটা অঙ্কের ভিজিট ও অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। সরকারি সুবিধা না পেয়ে আমরা বিভ্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ শেষের পরও কীভাবে তিনি সরকারি মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রভাস চন্দ্র সেন বলেন, “প্রকল্পের মূল কার্যক্রম শেষ হলেও ডেইরি ফার্মারদের সমিতির নিবন্ধনসংক্রান্ত কিছু কাজ এখনো চলমান রয়েছে। মূলত সেই কাজের প্রয়োজনে তিনি মাঝেমধ্যে অফিসে আসেন এবং সরকারি মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন।”

ফরিদপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আসজাদ জানান, সরকারি গাড়ি বা মোটরসাইকেল ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের কোনো নিয়ম নেই। প্রকল্প শেষ হলে সরকারি সম্পদ বিধিমোতাবেক জমা দিতে হয়। দাপ্তরিক বিশেষ প্রয়োজনে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও যথাযথ অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। যানবাহনটি কেন এখনো জমা দেওয়া হয়নি এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডা. মো. আব্দুস সালামের কক্ষে গেলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং দ্রুত কার্যালয় ত্যাগ করেন। ফলে এ বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।