আলফাডাঙ্গায় সমঝোতায় মিটল বিরোধ: পরিবারকে ‘একঘরে’ রাখার অবসান, ফিরল সম্প্রীতি

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
২৮ আগস্ট, ২০২৬ ১১:০৩ এএম
শেয়ার করুন:
আলফাডাঙ্গায় সমঝোতায় মিটল বিরোধ: পরিবারকে ‘একঘরে’ রাখার অবসান, ফিরল সম্প্রীতি

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পরিবারকে সামাজিকভাবে ‘একঘরে’ রাখা এবং মসজিদে নামাজ আদায়ে বাধার অভিযোগের শান্তিপূর্ণ অবসান হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আন্তরিক উদ্যোগ ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটে এলাকায় স্বস্তি ও সামাজিক সম্প্রীতি ফিরে এসেছে।

জানা গেছে, আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর নওয়াপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রফিক শেখের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী ওসমান গণির জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি মীমাংসার জন্য অতীতে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে সেই বৈঠকে ভুক্তভোগী পরিবার গ্রামের বাইরে থেকে নিজেদের আত্মীয়স্বজন নিয়ে আসে—এমন অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে গ্রামবাসীর একাংশ তাঁদের সামাজিকভাবে একঘরে করার সিদ্ধান্ত নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। 

পরবর্তীতে ওই পরিবারের সদস্যদের স্থানীয় মসজিদে নামাজ আদায়েও নিষেধ করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য খালিদ হাসান গত ২৬ আগস্ট আলফাডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং বিরোধের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে আলফাডাঙ্গা থানা চত্বরে উভয় পক্ষকে নিয়ে এক সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে মধ্যস্থতা করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূর জামাল খসরু, পৌর বিএনপির সভাপতি রবিউল হক রিপন ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান হাসিব।

বৈঠকে উভয় পক্ষ নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। দীর্ঘ আলোচনার পর পরস্পরের মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে এবং সবাই মিলেমিশে স্বাভাবিক সামাজিক জীবনযাপনে সম্মত হন। এ সময় গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে শেখ সাদী হাসান পরিবারটিকে ‘একঘরে’ করার সিদ্ধান্তকে ভুল বলে স্বীকার করেন এবং ভুক্তভোগী খালিদ হাসানের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। এতে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান হাসিব বলেন, “একটি পরিবারকে সামাজিকভাবে বয়কট করা মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতির পরিপন্থী। বিষয়টি জানার পরই আমরা উদ্যোগ নিই। আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষের ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়েছে এবং তারা ভবিষ্যতে মিলেমিশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন।”

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, “স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় থানা চত্বরে উভয় পক্ষকে নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে আপস-মীমাংসা করেছেন এবং বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হয়েছে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।