আগৈলঝাড়ায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও গর্ভপাতের অভিযোগ: প্রধান আসামির জামিন না দেওয়ার দাবি বাদীর

মোঃ মনিরুজ্জামান, অগৈলঝরা প্রতিনিধি, বরিশালঃ
২৬ আগস্ট, ২০২৬ ৮:৪২ পিএম
শেয়ার করুন:
আগৈলঝাড়ায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও গর্ভপাতের অভিযোগ: প্রধান আসামির জামিন না দেওয়ার দাবি বাদীর

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় যৌতুকের দাবিতে মারধর, গুরুতর জখম ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামির জামিন না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাদীপক্ষ। একই সঙ্গে জামিনে থাকা আসামিরা বাদী ও সাক্ষীদের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছে।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার বড় বাশাইল গ্রামের বাসিন্দা মোছা. সুপ্তি আক্তার (২৫) বাদী হয়ে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন (মামলা নং: এমপি ও নারী-শিশু ৩৬৮/২০২৬)। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাসহ দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—সুপ্তি আক্তারের স্বামী শাহাদাত ফকির (২৭), শ্বশুর মনিরুজ্জামান ফকির (৪৫), শাশুড়ি বিলকিস (৪৩), ভাসুর শাহারুল (৩০) এবং কামরুল ফকির (৫০)।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, যৌতুকের দাবিতে আসামিরা বিভিন্ন সময় সুপ্তি আক্তারের ওপর নির্যাতন চালাতেন। একপর্যায়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করা হলে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং জোরপূর্বক তার গর্ভপাত ঘটানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট আসামিরা আদালতে উপস্থিত হয়ে আগাম জামিনের আবেদন জানান। শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত মামলার ১ নম্বর আসামি শাহাদাত ফকিরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। তবে অপর চার আসামি কামরুল ফকির, মনিরুজ্জামান ফকির, শাহারুল ও বিলকিসের জামিন মঞ্জুর করা হয়।

বাদী সুপ্তি আক্তারের অভিযোগ, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকেই আসামি কামরুল ফকির মামলাটি প্রত্যাহার ও আপসের জন্য তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এতে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বাদী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। 

বাদীপক্ষ দাবি জানিয়েছে, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে যেন প্রধান আসামি শাহাদাত ফকিরের জামিন না দেওয়া হয়। পাশাপাশি জামিনে থাকা আসামিদের হুমকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন এবং আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আসামিপক্ষের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।