এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে আঘাত হানা ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালে ৬১৬ জন এবং তিব্বত অঞ্চলে ৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। দুর্যোগে এখনও আড়াই হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া বেশিরভাগ মরদেহে তীব্র পচন ধরায় শত শত মরদেহ শনাক্ত করতে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে প্রশাসন।
শনিবার স্থানীয় পুলিশ ও চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য প্রকাশ করে।
মরদেহ শনাক্তে জটিলতা ও ডিএনএ পরীক্ষা
নেপালের দক্ষিণ-মধ্য তেরাই অঞ্চলের চিতওয়ান জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নদী ও আশপাশের এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ২৩৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পানিতে ভেসে আসা ও ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া এসব মরদেহে পচন ধরায় মাত্র চারজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
বাকি ২২৯টি মরদেহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও সংরক্ষণকেন্দ্রে রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিচয় নিশ্চিত করতে মরদেহগুলো থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে।
ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও নিখোঁজের তালিকা
দুর্যোগের পর নেপালে এখনো প্রায় দুই হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে, তিব্বতের গিরং এলাকা থেকে নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৫৫৪ জন।
বন্যায় নেপালের নুয়াকোট জেলার ধর্মীয় তীর্থস্থান ‘দেবীঘাট’ এলাকা কাদা ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভেঙে গেছে বহু সেতু ও যোগাযোগ অবকাঠামো। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, নেপালের তিমুরে নদী তীরবর্তী ঘরবাড়ি ও সড়কগুলো কাদা-পাথরের নিচে চাপা পড়েছে। এছাড়া ত্রিশূলী নদীর তীরে অবস্থিত ‘রাসুওয়াগাড়ি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র’-এর বড় অংশই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
একইভাবে তিব্বতের গিরং বন্দর এলাকাটিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, কোথাও কোথাও কাদার স্তর এতটাই পুরু যে পা দিলেই তা দেবে যাচ্ছে।
নতুন দুর্যোগের আশঙ্কা ও বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) ভূতত্ত্ববিদ ড. আলেনা গিয়েশে সতর্ক করে বলেছেন, প্রাথমিক বন্যার পর জমে থাকা ধ্বংসাবশেষ ও বড় বড় পাথর এখনো অত্যন্ত অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।
তিনি জানান, হিমালয় অঞ্চল প্রাকৃতিকভাবেই সংবেদনশীল। বর্তমানে বর্ষাকাল ও বরফ গলার মৌসুম একসঙ্গে চলায় বৃষ্টিপাত ও হিমবাহের পানির কারণে আবারও নতুন করে ভূমিধস ও কাদার স্রোত নামার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তা ও ত্রাণ তৎপরতা
ভয়াবহ এ মানবিক বিপর্যয়ে নেপালের জন্য জরুরি সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ১০ হাজারের বেশি পরিবারের জন্য অবিলম্বে খাদ্য ও নিরাপদ পানির প্রয়োজন।
ইতোমধ্যে চার হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মানবিক সহায়তা হিসেবে ইউরোপীয় কমিশন ২০ লাখ ইউরো দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাও ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেলের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত এই বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর নতুন করে বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় নেপাল ও তিব্বতের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নোয়াখালী | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মাগুরা | ৫ অক্টোবর, ২০২৪
ভারত | ২৯ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয় | ২৯ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয় | ২৯ আগস্ট, ২০২৬
আন্তর্জাতিক | ২৯ আগস্ট, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।