প্রায় প্রতিটি ইউপিতে একাধিক প্রার্থী, যে দুশ্চিন্তায় বিএনপি

অনলাইন ডেস্কঃ
৩০ আগস্ট, ২০২৬ ১:০৫ পিএম
শেয়ার করুন:
প্রায় প্রতিটি ইউপিতে একাধিক প্রার্থী, যে দুশ্চিন্তায় বিএনপি

চলতি বছরের শেষ দিকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল ঘোষণার আগেই নির্বাচনী মাঠে জোর তৎপরতা শুরু করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে দেশের প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলের একাধিক নেতা মাঠে নামায় বিপাকে পড়েছে বিএনপি। তৃণমূলের এই তীব্র অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা সামলে দল-সমর্থিত 'একক প্রার্থী' চূড়ান্ত করা এবং দলের মধ্যকার ঐক্য অটুট রাখাই এখন হাইকমান্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দলীয় ও মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় প্রতিটি ইউপিতেই বিএনপির একাধিক নেতা প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন। কোনো কোনো ইউনিয়নে ৩ থেকে ৪ জন, আবার কোথাও কোথাও ৯ জন পর্যন্ত নেতা প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেন্দ্র থেকে এখনো প্রার্থী বাছাই বা নির্বাচনী কৌশল নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক দিকনির্দেশনা না এলেও স্থানীয় পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের মতো করে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। ফলে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে গ্রুপিং ও বিরোধের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

ইসির প্রস্তুতি ও নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি
চলতি অর্থবছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, আগামী নভেম্বরের দিকে ইউপি নির্বাচন শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। সে অনুযায়ী আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই তফসিল ঘোষণা হতে পারে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন জানিয়েছেন, দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউপির মধ্যে যেগুলোর মেয়াদ শেষ এবং নির্বাচন উপযোগী, প্রথম ধাপে সেগুলোতে ভোট গ্রহণ করা হবে। 

তফসিল ও ভোটের মধ্যকার সময়, আইনি বাধ্যবাধকতা এবং বন্যা, দুর্গাপূজা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যস্ততাসহ আগামী বছরের রমজান ও ঈদের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই সময়সূচি চূড়ান্ত করছে কমিশন।

'একক প্রার্থী' নিশ্চিতে কঠোর কেন্দ্র
তৃণমূলের সম্ভাব্য কোন্দল ঠেকাতে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব শুরু থেকেই 'একক প্রার্থী'র ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিভিন্ন জেলা ও মহানগর কমিটির নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় সভায় স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দল-সমর্থিত একক প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে হবে। ইতোমধ্যে তিনি রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা এবং বগুড়া জেলা কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। এছাড়া জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকেও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে ঐক্য বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এমরান সালেহ প্রিন্স জানান, স্থানীয় পর্যায়ে যাদের গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা বেশি, দল কেবল তাদেরই সমর্থন দেবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, "প্রার্থিতার বিষয়ে এখনো স্থানীয় পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক নির্দেশনা পাঠানো হয়নি। তবে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে দলীয় ঐক্য এবং একক প্রার্থীকে সমর্থনের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিচ্ছেন।"

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমঝোতায় আনা না গেলে স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক ক্ষতি হতে পারে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ 'বিদ্রোহী প্রার্থী' হলে বহিষ্কারসহ কঠোর সাংগঠনিক শাস্তির হুঁশিয়ারি থাকলেও বহু প্রার্থী মাঠে নেমে পড়ায় শেষ পর্যন্ত সবাইকে নিয়ন্ত্রণে রাখা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বাইরের প্রতিদ্বন্দ্বিতার চাপ
অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের পাশাপাশি বিএনপিকে বাইরে থেকেও ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা সামলাতে হতে পারে। মাঠে সক্রিয় রয়েছে জামায়াতে ইসলামী এবং প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি)। অন্যদিকে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও স্থানীয় নির্বাচনে ভিন্ন কৌশলে গোপনে প্রার্থী দিয়ে মাঠে থাকার চেষ্টা করতে পারে বলে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, বাইরের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা মোকাবিলার পাশাপাশি দলের ভেতর থেকে একক প্রার্থী নিশ্চিত করে তৃণমূলের ঐক্য ধরে রাখাই এখন বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।