গাজায় সামরিক অভিযানে যেতে নারাজ, ১৬ ইসরায়েলি সেনার কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্কঃ
৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৫১ এএম
শেয়ার করুন:
গাজায় সামরিক অভিযানে যেতে নারাজ, ১৬ ইসরায়েলি সেনার কারাদণ্ড

ফিলিস্তিনের গাজায় একটি জরুরি সামরিক অভিযানে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় নিজেদের ১৬ জন সেনাসদস্যকে সামরিক কারাদণ্ড দিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। মূলত সাঁজোয়া যানে একজন নারী প্যারামেডিক সঙ্গী হিসেবে থাকায় ওই সেনারা এই অভিযান বয়কট করেন। সেনাদের অনড় অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত পুরো সামরিক মিশনটিই বাতিল করতে বাধ্য হয় আইডিএফ।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম *ওয়াইনেট নিউজ*-এর বরাতে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত সেনারা সবাই আইডিএফের গিভাতি ব্রিগেডের রোটেম ব্যাটালিয়নের সদস্য এবং তারা মূলত কট্টরপন্থী অর্থডক্স ইহুদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা ‘ইয়েশিভা’ থেকে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। 

যে কারণে অভিযান বাতিল  
আইডিএফের বিবৃতির বরাতে জানানো হয়, গাজায় ‘নামার’ সাঁজোয়া যানে করে একটি জরুরি সামরিক টহলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ওই দলকে। তবে দলে একজন নারী প্যারামেডিক নিয়োজিত থাকায় ধর্মীয় অনুভূতির অজুহাত তুলে তরুণ সেনারা সম্মিলিতভাবে অভিযানে যেতে অস্বীকৃতি জানান। সেনাদের এই অবাধ্যতায় মিশনটি তাৎক্ষণিকভাবে ভেস্তে যায়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার ও ব্রিগেডের ধর্মীয় নির্দেশক (রাব্বি) উপস্থিত হয়ে সেনাদের কাছে অপারেশনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এমনকি বিশেষ পরিস্থিতিতে ধর্মীয় বিধিনিষেধ শিথিল করে রাব্বি তাদের অভিযানে অংশ নেওয়ার অনুমোদন দিলেও তারা নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

সেনাদের যে সাজা দেওয়া হলো 
সেনাবাহিনীর আদেশ অমান্য করার ঘটনাটি খতিয়ে দেখে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার। এর মধ্যে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়া মূল ৫ সেনাকে ১০ দিন এবং বাকি ১১ সেনাকে ৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়ে সামরিক হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ১০ দিনের দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে দুজনকে পুনরায় যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর আগে সামরিক মূল্যায়ন কমিটির শুনানির মুখোমুখি হতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

সেনাবাহিনীর ভেতরে অসন্তোষ ও সমালোচনা
ঘটনাটির পর ব্যাটালিয়নের হারেদি সেনা দলের এক সদস্য জানান, অভিযুক্ত সেনারা একেবারেই তরুণ ও অনভিজ্ঞ। সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরের নিয়মের সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতার যে পার্থক্য রয়েছে, তা বুঝতে না পারার খেসারত দিতে হচ্ছে তাদের।

অন্যদিকে, যুদ্ধক্ষেত্রে এমন সংকীর্ণ মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করেছেন কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের রিজার্ভ নারী প্যারামেডিক আলিসা ক্র্যান্ট। তিনি বলেন, “জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন বাঁচানোই আমাদের একমাত্র দায়িত্ব। কোনো সেনা যখন আহত হন, তখন চিকিৎসক পুরুষ নাকি নারী—তা বিবেচ্য বিষয় হতে পারে না। এমনকি ইহুদি ধর্মেও জীবন বাঁচানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নারী সেনারা যখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করছেন, তখন এমন আচরণ সেনাবাহিনীর মূলনীতির পরিপন্থি।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।