নগরকান্দায় বাড়ি-জমি থাকার পরও ‘ভূমিহীন’ সেজে খাসজমি বন্দোবস্তের অভিযোগ

মিজানুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ
৩০ আগস্ট, ২০২৬ ৬:০০ পিএম
শেয়ার করুন:
নগরকান্দায় বাড়ি-জমি থাকার পরও ‘ভূমিহীন’ সেজে খাসজমি বন্দোবস্তের অভিযোগ

নিজের বাড়ি ও স্থাবর সম্পত্তি থাকার পরও সরকারি নথিতে ‘ভূমিহীন’ দেখিয়ে মূল্যবান সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক দুবাইপ্রবাসীর বিরুদ্ধে। ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের কৃষ্ণারডাঙ্গী গ্রামের গজারিয়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। 

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আক্তার খালাশি। তিনি উপজেলার ঘোপালপুর গ্রামের জলিল খালাশির ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে কর্মরত।

স্থানীয় জমির মালিকদের অভিযোগ, গজারিয়া বাজারসংলগ্ন কৃষ্ণারডাঙ্গী মৌজার ৫৮৮/৬০৯ নম্বর দাগের সামনে ১ নম্বর খতিয়ানের প্রায় ৮ শতাংশ সরকারি খাসজমি রয়েছে। জায়গাটি বাজারের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হওয়ায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বিগত সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে ও অর্থের বিনিময়ে আক্তার খালাশি নিজের নামে বন্দোবস্ত নেন।

ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা বাবলু শেখ, মর্জিনা, মুঞ্জিলা ও আর্জিনা জানান, তাঁদের বাড়ি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির সামনে থাকা সরকারি জায়গাটি বন্দোবস্ত দেওয়ার কারণে তাঁদের স্বাভাবিক চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে গেছে। এতে বাড়ি থেকে বের হওয়া এবং পেছনের জমিতে যাতায়াত করতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। 

তাঁরা দাবি করেন, আক্তার খালাশি যথেষ্ট সচ্ছল এবং এলাকায় তাঁর নিজের বাড়ি ও জমি রয়েছে। এমন অবস্থায় তিনি কীভাবে ‘ভূমিহীন’ হিসেবে সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত পেলেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার আগে যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও তদন্তের দাবি জানান তাঁরা।

এদিকে স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, জমিটি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও সেখানে কাজ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, যা এলাকায় উত্তেজনা তৈরি করছে। দ্রুত সীমানা নির্ধারণ করে বন্দোবস্তের বৈধতা পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আক্তার খালাশি বলেন, “জমিটি আমি অনেক আগে ভূমিহীন হিসেবে বন্দোবস্ত নিয়েছি। এখন আমার বাড়ি ও জমি আছে সত্য, আমি প্রবাসে থাকায় টাকা-পয়সা হয়েছে। তবে আগে আমি গরিব ছিলাম। বাজারের জায়গাটি তখন নিয়ম মেনেই নিয়েছি।”

নগরকান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খাইরুল হাসান বলেন, “আইন অনুযায়ী কারও নামে নিজস্ব জায়গা বা বসতবাড়ি থাকলে ভূমিহীন হিসেবে খাসজমি বন্দোবস্ত পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।