আমি নাক গলাতাম কিন্তু পাকিস্তান বেশ ভালো করছে: পাক-আফগান যুদ্ধ প্রসঙ্গে ট্রাম্প
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন যুদ্ধ ও সংঘাতে মধ্যস্থতা করে ‘শান্তি’ ফেরানোর জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের খ্যাতি থাকলেও, এবার পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার চলমান ভয়াবহ লড়াইয়ে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি। তবে এই ইস্যুতে ট্রাম্প সরাসরি পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং দেশটির বর্তমান নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
গতকাল শুক্রবার পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমি সাধারণত এসব ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতাম, কিন্তু পাকিস্তানে এখন একজন চমৎকার প্রধানমন্ত্রী এবং একজন অত্যন্ত দক্ষ জেনারেল রয়েছেন। তাঁদের নেতৃত্ব অত্যন্ত বলিষ্ঠ। আমি তাঁদের দুজনকে (শাহবাজ শরিফ ও আসিম মুনির) খুব শ্রদ্ধা করি। আমার মনে হচ্ছে পাকিস্তান বেশ ভালো করছে।”
ট্রাম্পের এই ইতিবাচক মন্তব্যের মধ্যেই সীমান্তে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘ওপেন ওয়ার’ বা সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি সপ্তাহে পাকিস্তান দাবি করেছে যে, তারা আফগানিস্তানের কাবুল ও কান্দাহারসহ ২৯টি স্থানে আকাশপথে জোরালো হামলা চালিয়েছে। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর এটিই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে চালানো সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান।
পাকিস্তান সরকারের মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী, বিমান হামলায় ২৯৭ জন আফগান তালেবান ও সশস্ত্র জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে এই দাবিকে নাকচ করে দিয়ে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, আফগান বাহিনীর পাল্টা হামলায় ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তালেবান আরও দাবি করেছে যে, তারা পাকিস্তানের ১৩৩ জন সেনাকে হতাহত করেছে এবং ২৭টি সেনা চৌকি দখল করে নিয়েছে।
হামলার কয়েক ঘণ্টা পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতার ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে বলেন, “যেকোনো ধরনের আগ্রাসন গুঁড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা আমাদের বাহিনীর রয়েছে। সমগ্র জাতি আজ সশস্ত্র বাহিনীর পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।”
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তালেবানের হামলার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ‘আত্মরক্ষার অধিকার’ রয়েছে এবং ওয়াশিংটন একে সমর্থন করে। তালেবানরা আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানোর সুযোগ দিচ্ছে উল্লেখ করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্টের জন্য তাদের দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ব্রিটেন উভয় পক্ষকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। চীন অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির তাগিদ দিয়েছে এবং ইরান এই সংকট নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে।
পাকিস্তানে চলমান এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে মার্কিন দূতাবাস। সামরিক স্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দপ্তর এবং বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি থাকায় চলাচলের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
জো বাইডেনের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের সম্পর্কের শীতলতা দেখা দিলেও ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর দৃশ্যপট পাল্টাতে শুরু করেছে। ওয়াশিংটন আফগান তালেবানকে একটি ‘সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে এবং পাকিস্তান তাদের অন্যতম প্রধান ‘নন-ন্যাটো’ মিত্র। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকেও ট্রাম্পের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করে তাঁকে ‘নোবেল শান্তি পুরস্কার’-এর যোগ্য বলে অভিহিত করা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই সরাসরি সমর্থন পাকিস্তানের জন্য বড় কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
What's Your Reaction?
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ