বিজয়নগরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত
মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ধর্মীয় বিধিবিধান মেনে মুসলিম উম্মাহর এই অন্যতম বৃহৎ উৎসবটি উদযাপন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮টায় উপজেলার খিরাতলা ও শ্রীপুর দক্ষিণ পূর্ব পাড়া ঈদগাহ মাঠে বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিতিতে পবিত্র ঈদুল আযহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা মহান আল্লাহর দরবারে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে আনন্দের মেলবন্ধন তৈরি করেন। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের মাঝে ছিল ঈদের আনন্দ ও উৎসবের আমেজ। ঈদগাহ মাঠে ধনী-দরিদ্র, শ্রমজীবী, ব্যবসায়ীসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ একই কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন, যা সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
পবিত্র কোরবানির মূল তাৎপর্য ও উৎসর্গীকৃত চেতনা ফুটে ওঠে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মাধ্যমে। এলাকার সামর্থ্যবান ও বিত্তবান ব্যক্তিরা নিজ উদ্যোগে কোরবানির পশুর গোশত গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিতরণ করেন। দীর্ঘদিন পর গোশত পেয়ে অনেক অসচ্ছল পরিবারের মুখে হাসি ফোটে এবং তারা মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পুরো উপজেলাজুড়ে ছিল এক আনন্দঘন ও প্রাণবন্ত পরিবেশ। আত্মীয়-স্বজন ও অতিথিদের পারস্পরিক মিলনমেলা, কোরবানির পশু জবাই, গোশত বণ্টন, রান্নাবান্না এবং মেহমানদারির মধ্য দিয়ে দিনটি অত্যন্ত ব্যস্ত ও স্মরণীয়ভাবে পার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আযহা আমাদের সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবতার দীক্ষা দেয়। এই উৎসবের মাধ্যমে সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে—এমনটাই প্রত্যাশা বিজয়নগরবাসীর।
What's Your Reaction?
মোঃ শামীম মিয়া, বিজয়নগর প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ