সীতাকুণ্ডে র্যাব ক্যাম্পে ইয়াসিন বাহিনীর গুলিবর্ষণ, থমথমে জঙ্গল সলিমপুর
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) একটি ক্যাম্পে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে স্থানীয় কুখ্যাত সন্ত্রাসী ‘ইয়াসিন বাহিনী’র সদস্যরা এই হামলা চালায় বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব জানায়, গভীর রাতে হঠাৎ করেই সন্ত্রাসীরা র্যাব ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে র্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালান। তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
র্যাব–৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "সন্ত্রাসীদের একটি পক্ষ অতর্কিতভাবে আমাদের ক্যাম্পে আক্রমণ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং অপরাধীদের দমনে ঘটনাস্থলে ইতিমধ্যে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা বড় ধরনের অভিযানে নামছি এবং কোনো সন্ত্রাসীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।"
পুরানো শত্রুতা ও প্রেক্ষাপট:
জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি দীর্ঘ দিন ধরেই অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি এই এলাকায় অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেন ভুঁইয়া নিহত হন। সেই ঘটনার পর গত ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের প্রায় ৪ হাজার সদস্যের সমন্বয়ে একটি বিশাল ‘সাঁড়াশি অভিযান’ পরিচালিত হয়।
সেই অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াসিন এবং রোকন বাহিনীর প্রধান রোকন উদ্দিনসহ শীর্ষ বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী পলাতক থেকে যায়। স্থানীয়দের তথ্যমতে, জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকা রোকনের দখলে এবং আলীনগর এলাকা ইয়াসিনের একক নিয়ন্ত্রণে ছিল। দীর্ঘ দিন আত্মগোপনে থাকার পর ইয়াসিন বাহিনীর এই দুঃসাহসিক হামলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুর ও এর আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং অপরাধীদের ধরতে চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ