‘প্যান্ট-শার্ট লাগবে না, লাগবে শুধু বাবা তোমাকে’
ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাবার সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল কিশোর তুহিন। কথা ছিল বাড়ি গিয়ে বাবা তাকে নতুন প্যান্ট-শার্ট কিনে দেবেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নিল। টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চোখের সামনেই বাবাকে হারাল তুহিন। তার বুকফাটা আর্তনাদে আজ ভারী হয়ে উঠেছে দুর্ঘটনাস্থলের আকাশ-বাতাস।
দুর্ঘটনার বিবরণ:
সোমবার (২৫ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। উত্তরবঙ্গগামী একটি রডবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন যাত্রী নিহত হন এবং আহত হন অন্তত ১০ জন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জনই নওগাঁর বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
বাবার জন্য সন্তানের আহাজারি:
নিহতদের মধ্যে একজন নজরুল ইসলাম, যার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায়। তিনি ও তার ছেলে তুহিন রডবোঝাই ওই ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। দুর্ঘটনায় তুহিন প্রাণে বেঁচে গেলেও ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে মারা যান তার বাবা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তুহিন বলে, “বাবা তুমি না আমাকে বাড়িতে নিয়ে প্যান্ট-শার্ট কিনে দিবে? এখন আমার প্যান্ট-শার্ট লাগবে না, লাগবে শুধু বাবা তোমাকে। পাশে বসে তোমার কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে ছিলাম, কেন আমি আগে জাগলাম না!”
তুহিন অভিযোগ করে বলেন, দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় নেয়। দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু হলে হয়তো তার বাবাসহ আরও অনেককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো।
উদ্ধার অভিযান ও যান চলাচল:
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং উদ্ধার কাজ তদারকি করেন। যমুনা সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানি জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ যাত্রী ট্রাকের ওপর ঘুমন্ত অবস্থায় থাকায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে।”
উদ্ধার অভিযানের কারণে ভোর ৪টা ২৫ মিনিট থেকে ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। বর্তমানে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ জানায়, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ঈদের আগ মুহূর্তে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ