স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
ঢাকার আশুলিয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী সীমা আক্তারকে গলা কেটে হত্যার দায়ে স্বামী মো. রেজাউল করিম মাদবরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি রেজাউল করিম পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জিয়াউল হক জিয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায়ে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দণ্ডাদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী মামলার যাবতীয় নথিপত্র উচ্চ আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। পলাতক আসামি রায় ঘোষণার সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
মামলার পটভূমি:
মামলার নথি থেকে জানা যায়, সীমা আক্তার তার স্বামী ও শিশুকন্যা রূপাকে নিয়ে আশুলিয়ার ইদ্রিস কলেজ রোডের আফাজ উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সীমা একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করতেন, কিন্তু তার স্বামী রেজাউল কোনো কাজ করতেন না। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো।
২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল ভোরে পারিবারিক কলহের এক পর্যায়ে রেজাউল তার স্ত্রী সীমার মাথায় আঘাত করেন। সীমা মাটিতে পড়ে গেলে রেজাউল ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। ঘটনার পরপরই পালিয়ে যাওয়ার সময় বাড়ির মালিক ও স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট পুলিশ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি বিচারকাজ শুরু হয় এবং দীর্ঘ শুনানির পর ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের ভিত্তিতে আদালত আজ এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করলেন।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ