দুই যুগের বকেয়া বিলের বোঝা: ৬৪ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিলের চাপে বরিশাল সিটি করপোরেশন

অনলাইন ডেস্কঃ
May 22, 2026 - 11:01
দুই যুগের বকেয়া বিলের বোঝা: ৬৪ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিলের চাপে বরিশাল সিটি করপোরেশন

দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বিদ্যুৎ বিলের বিশাল বকেয়া নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। তৎকালীন পৌরসভা আমল থেকে শুরু হওয়া এই ঋণের বোঝা দুই দশক পেরিয়ে গেলেও পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)-এর কাছে সিটি করপোরেশনের পানি ও বিদ্যুৎ শাখা মিলিয়ে বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৪ কোটি টাকা।

বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, বকেয়া আদায়ের লক্ষ্যে ওজোপাডিকো অতীতে একাধিকবার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নিলেও জনস্বার্থ বিবেচনায় তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তবে আশার কথা হলো, বর্তমানে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ নতুন করে কোনো বকেয়া তৈরি হতে দিচ্ছে না। ২০২৩ সাল থেকে প্রতি মাসের নিয়মিত বিল সময়মতো পরিশোধ করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিসিসির বর্তমান প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন দায়িত্ব গ্রহণের পর বিল পরিশোধের কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। এর অংশ হিসেবে গত ডিসেম্বর মাসে ৪৮ লাখ ৩ হাজার ৫৭৯ টাকা এবং জানুয়ারি মাসে ৪৯ লাখ ৫ হাজার ২২৫ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। অর্থাৎ, মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে প্রায় ৯৭ লাখ ৮ হাজার ৮০৪ টাকা বিদ্যুৎ বিল সমন্বয় করেছে বিসিসি।

**ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি**  
১৮৭৬ সালে ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বরিশাল পৌরসভা ১৯৮৫ সালে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয় এবং ২০০২ সালে এটি সিটি করপোরেশনের মর্যাদা পায়। ৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই নগরীতে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস। ৩০টি ওয়ার্ডের বিশাল এই জনগোষ্ঠীর জন্য সড়ক বাতি জ্বালানো এবং বৈদ্যুতিক পাম্পের মাধ্যমে পানি সরবরাহে প্রতি মাসেই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হয়। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের বিপরীতে যে বিপুল বিল তৈরি হয়, তা পরিশোধ করাই এখন করপোরেশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

বিসিসির বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী অহিদ মুরাদ বলেন, "বকেয়া বিলের যে অংকটি দেখা যাচ্ছে, সেটি মূলত পৌরসভা আমল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়ের। ২০২৩ সাল থেকে আমরা নিয়মিত মাসিক বিল পরিশোধ করছি। বর্তমান প্রশাসকের তদারকিতে এই প্রক্রিয়া আরও জোরদার হয়েছে।"

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন এ প্রসঙ্গে বলেন, "আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বকেয়া যেন আর না বাড়ে, সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। যেহেতু এই বিশাল ঋণ অনেক বছরের পুরনো, তাই এটি একবারে পরিশোধ করা কঠিন। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছি যাতে নাগরিক সেবা সচল রেখে ধাপে ধাপে এই বকেয়া সমন্বয় করা যায়।"

পুরনো ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েও নগরবাসীকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে বদ্ধপরিকর বরিশাল সিটি করপোরেশন। তবে এই বিশাল বকেয়া কত দ্রুত মেটানো সম্ভব হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow