নোয়াখালীতে স্যাকমোর ভুল চিকিৎসায় হাম আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু
নোয়াখালী সদর উপজেলায় ভুল চিকিৎসায় ৫ বছর বয়সী মাহিয়া আক্তার নামে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার করমূল্যা বাজারে মো. সিরাজুল ইসলাম নামে এক উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারের (স্যাকমো) ফার্মেসিতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মাহিয়া উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভূঁইয়া বাড়ির মো. করিমের মেয়ে। অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে স্যাকমো হিসেবে কর্মরত থাকলেও করমূল্যা বাজারে তার নিজস্ব ফার্মেসি রয়েছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার শিশু মাহিয়ার শরীরে জ্বর দেখা দিলে মা কামরুন নাহার তাকে সিরাজুল ইসলামের ফার্মেসিতে নিয়ে যান। গত মঙ্গলবার শিশুটির মুখে ঘা দেখা দিলে সিরাজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান শিশুটি হামে আক্রান্ত। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, তিনি আরও বেশ কয়েকজন হাম আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা দিচ্ছেন।
মাহিয়ার মামা মুরাদ অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার সকালে মাহিয়ার অবস্থার অবনতি হলে তার মা পুনরায় তাকে ওই ফার্মেসিতে নিয়ে যান। তবে সে সময় সিরাজুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পাশের দোকানের এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দেন মাহিয়ার শরীরে স্যালাইন পুশ করার জন্য। ওই ব্যক্তির দেওয়া স্যালাইন নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে শিশুটির খিঁচুনি শুরু হয়। দ্রুত তাকে মাইজদীর মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
মুরাদ আরও বলেন, "একজন স্যাকমোর হামের মতো জটিল রোগের চিকিৎসা করার কোনো এখতিয়ার নেই। অথচ তিনি জেনেশুনেই আমার ভাগনিকে অপচিকিৎসা দিয়েছেন। ময়নাতদন্তের ঝামেলার ভয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানাইনি।"
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে স্যাকমো সিরাজুল ইসলাম বলেন, "শিশুটির হাম হয়েছে জানার পর আমি পরিবারকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছিলাম। আজ শিশুটিকে যখন আনা হয়, তখন আমি চেম্বারে ছিলাম না। আমার অনুপস্থিতে কী ঘটেছে তা আমি জানি না।"
এ বিষয়ে নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, "পল্লী চিকিৎসক বা একজন স্যাকমো কোনোভাবেই হামে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা দিতে পারেন না। ভুক্তভোগী পরিবার আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও, আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়রা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
What's Your Reaction?
রিপন মজুমদার, জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালিঃ