ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হিসেবে দেখছেন নেতানিয়াহু

অনলাইন ডেস্কঃ
৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০৯ পিএম
শেয়ার করুন:
ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হিসেবে দেখছেন নেতানিয়াহু

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইসরায়েলের আর কোনো শক্তিশালী বন্ধু বা সহযোগী অবশিষ্ট নেই—মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের এমন মন্তব্যকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ভারতকে ইসরায়েলের অন্যতম বৃহৎ ও প্রধান সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, নয়াদিল্লির কাছ থেকে তেল আবিব সবসময় অসামান্য সহযোগিতা পেয়ে আসছে।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে, বিশ্বমঞ্চে আমেরিকার বাইরেও তাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু রয়েছে। 

ভারতের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব মনে করিয়ে দিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, 
"আমাদের আরও কিছু বন্ধু আছে, যেমন ভারত নামের একটি দেশ। সেখানে ১৪০ কোটি মানুষ বসবাস করে এবং আপনারা ধারণাও করতে পারবেন না যে সেখানে আমাদের জন্য কত বিপুল ও চমৎকার সমর্থন রয়েছে।"

জেডি ভ্যান্সের সতর্কবার্তা ও নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া
এর আগে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসরায়েলকে উদ্দেশ্য করে একটি কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারকের পক্ষে যুক্তি দেখাতে গিয়ে ভ্যান্স বলেছিলেন, ইসরায়েলি প্রশাসনের উচিত হবে না বিশ্বের বুকে তাদের টিকে থাকার ‘একমাত্র শক্তিশালী মিত্র’ আমেরিকার সঙ্গে কোনো ধরনের দ্বন্দ্বে জড়ানো বা বৈরী আচরণ করা। মূলত মার্কিন প্রশাসনের এই প্রচ্ছন্ন হুমকির জবাব দিতেই নেতানিয়াহু ভারতের প্রসঙ্গটি সামনে নিয়ে এসেছেন।

সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু মার্কিন নেতৃত্বের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে জানান, তিনি আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে যথেষ্ট সম্মান করেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হলেন হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে ইসরায়েলের দেখা ‘সবচেয়ে সেরা বন্ধু’। তবে এর অর্থ এই নয় যে তিনি ভ্যান্সের সব বক্তব্যের সঙ্গে একমত হবেন। আর এই কারণেই ভারতের সমর্থনের বিষয়টি জনসমক্ষে স্পষ্ট করা তিনি প্রয়োজন মনে করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বৈশ্বিক সমর্থন দাবি
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি ভারতীয় নাগরিকদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত বিপুল ও স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন পেয়ে চলেছেন। বর্তমানে অনেক দেশে ‘ইসরায়েল-বিরোধী এবং ইহুদি-বিরোধী উপাদান’ প্রচার করা এক ধরনের ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে বাস্তব চিত্রটি ভিন্ন দাবি করে তিনি বলেন, পর্দার আড়ালে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা প্রতিনিয়ত তার সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি সই করতে এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর রণকৌশল ও অভিজ্ঞতা শেখার জন্য যোগাযোগ করছেন।

দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার প্রসঙ্গ
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহারের কথা থাকলেও তেল আবিব এখনও সেই দাবি মেনে নেয়নি। এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে নেতানিয়াহু দাবি করেন, হিজবুল্লাহর হাত থেকে বাঁচতে দক্ষিণ লেবাননের কিছু খ্রিস্টান গ্রাম ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অনুরোধ করেছে। উগ্রপন্থীদের হাত থেকে খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে রক্ষা করতেই ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে অবস্থান করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। 

অবশ্য লেবাননের স্থানীয় প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই দাবিকে সম্পূর্ণ অসত্য এবং ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।