এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের নতুন লক্ষ্ম্যমাত্রা নির্ধারণ যুক্তরাষ্ট্রের

অনলাইন ডেস্কঃ
২৪ জুন, ২০২৬ ১১:৫৩ এএম
শেয়ার করুন:
এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের নতুন লক্ষ্ম্যমাত্রা নির্ধারণ যুক্তরাষ্ট্রের

আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বহরে থাকা অত্যাধুনিক স্টিলথ যুদ্ধবিমান এফ-৩৫-এর অন্তত ৮০ শতাংশ সার্বক্ষণিক যুদ্ধপ্রস্তুত রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন। তবে বিমান বহরের সংখ্যার তুলনায় এর রক্ষণাবেক্ষণ ও রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা এখনও বেশ পিছিয়ে রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।  

গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) মার্কিন সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির এক শুনানিতে অংশ নিয়ে এ তথ্য জানান যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল গ্রেগরি মাসিয়েলো। বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে মার্কিন শক্তির মূল চালিকাশক্তি
এফ-৩৫ বিমানকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর সামরিক শক্তির অন্যতম মূল ‘ভিত্তিপ্রস্তর’ হিসেবে উল্লেখ করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসিয়েলো। তিনি জানান, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৪২টি সামরিক ঘাঁটি এবং ২৩টি বিমানবাহী রণতরিতে এই যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি রণতরি আমেরিকার এবং বাকি ১৩টি পরিচালনা করছে মিত্র দেশগুলো।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে এই যুদ্ধবিমানের সফল ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে জেনারেল মাসিয়েলো জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে এই বিমানগুলো অংশ নিয়েছিল। এর বিশেষ কার্যকারিতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “অন্য কোনো বিমান যেখানে পৌঁছাতে বা আঘাত হানতে পারে না, এই বিমানটি সেখানে নিখুঁতভাবে আঘাত করতে পারে এবং এটি আকাশের সব গতিবিধির ওপর নজর রাখতে সক্ষম।”

রক্ষণাবেক্ষণ ও রসদ সরবরাহের ঘাটতি
যুদ্ধবিমানের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, সেই তুলনায় এর লজিস্টিকস ও খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় যুদ্ধপ্রস্তুতিতে বড় ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। জেনারেল মাসিয়েলো বলেন, “আমাদের বর্তমান লজিস্টিকস ব্যবস্থাটি ৭০০ থেকে ৮০০টি বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ১ হাজার ৩০০টিরও বেশি এফ-৩৫ বিমান যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিমান বহরের সংখ্যার সঙ্গে এই রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার অমিলই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

তিনি আরও জানান, আগামী দিনে মিত্র দেশগুলোর কাছে এই যুদ্ধবিমানের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। উদাহরণস্বরূপ, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৮০০টি এফ-৩৫ বিমান মোতায়েন থাকবে, যার মধ্যে আমেরিকার বিমান থাকবে মাত্র ১০ শতাংশের কম।

উদ্বেগের কারণ ও লক্ষ্যমাত্রা
সম্প্রতি মার্কিন সরকারের জবাবদিহি সংস্থা ‘গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস’ (জিএও)-এর একটি প্রতিবেদনে এফ-৩৫ বহরের সামগ্রিক বেহাল দশা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও খুচরা যন্ত্রাংশের তীব্র সংকটের কারণে গত বছর আমেরিকার এফ-৩৫ বিমানগুলোর মাত্র ২৫ শতাংশ সম্পূর্ণ মিশনের জন্য প্রস্তুত ছিল। আর পুরো বহরের সামগ্রিক কার্যকারিতার হার নেমে এসেছিল মাত্র ৪৪ শতাংশে। 

এই নাজুক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্যকারিতার হার ৮০ শতাংশে উন্নীত করাই এখন পেন্টাগনের মূল লক্ষ্য।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।