টাকা দিয়েও মুক্তি পাননি শাহিন

অনলাইন ডেস্কঃ
২২ জুন, ২০২৬ ১০:৫০ এএম
শেয়ার করুন:
টাকা দিয়েও মুক্তি পাননি শাহিন

ঢাকার কেরানীগঞ্জে অপহরণের শিকার মো. শাহিন নামের এক ডেকোরেটর ব্যবসায়ীর খোঁজ মেলেনি। অপহরণকারীদের দাবি অনুযায়ী মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করার পরও দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ রয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর পরিবার। 

নিখোঁজ মো. শাহিন কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ নয়াবাড়ি এলাকার শহিদুল্লাহ বেপারীর ছেলে। তিনি স্থানীয় চুনকুটিয়া বেবিস্ট্যান্ড এলাকায় ডেকোরেটরের ব্যবসা করেন।

যেভাবে নিখোঁজ হন শাহিন:
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন (সোমবার) সন্ধ্যায় কর্মস্থলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন শাহিন। রাত সোয়া ৯টার দিকে মোবাইল ফোনে মেয়ের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলেন তিনি। তখন মেয়েকে জানিয়েছিলেন যে তিনি দোকানেই আছেন। তবে প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, ওই সময় তার অবস্থান দোকানে ছিল না; বরং পাশের হিজলতলা এলাকায় তার অবস্থান শনাক্ত করা গেছে। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। অনেক খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান না পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার।

মুক্তিপণ দাবি ও টাকা প্রদান:
শাহিনের বড় ভাই শফিকুল ইসলাম জানান, নিখোঁজের দুই দিন পর ১৭ জুন (বুধবার) শাহিনের ব্যক্তিগত ফোন থেকে তার শ্যালিকা জুঁইয়ের কাছে একটি কল আসে। অপহরণকারীরা পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং বিষয়টি পুলিশকে জানালে শাহিনকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে অনুনয়-বিনয় করার পর তারা ৫০ হাজার টাকা নিতে রাজি হয় এবং টাকা নিয়ে রাজেন্দ্রপুর স্টিল ব্রিজের নিচে যেতে বলে। 

শফিকুল ইসলাম আরও জানান, অপহরণকারীরা টাকা নিয়ে ব্রিজের নিচে যাওয়ার পর নির্দেশ দেয়, ‘টাকা ব্রিজের রেলিংয়ের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে চলে যান, কিছুক্ষণ পর শাহিন বাড়ি চলে যাবে।’ অপহরণকারীদের নির্দেশনা অনুযায়ী টাকা রেখে আসা হলেও আজ পর্যন্ত শাহিন বাড়ি ফিরে আসেননি।

তদন্তে পুলিশ ও র‍্যাব: 
এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জাকির হোসেন বলেন, ‘পরিবারের লোকজন যখন মুক্তিপণের টাকা নিয়ে রাজেন্দ্রপুর গিয়েছিল, তখন আমি অন্য একটি দায়িত্ব পালন করছিলাম। তবে আমি তাদের বলেছিলাম, অপরাধীদের দেখামাত্র যেন আমাকে অবগত করে, যাতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো যায়।’

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ব্যবসায়ী শাহিনকে অক্ষত উদ্ধার এবং অপহরণকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-ও ছায়া তদন্ত শুরু করেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।