মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি দেশের প্রতি দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান[1]। তিনি বলেন, "আসুন আমরা সবাই মিলে দেশের জন্য কিছু করার চিন্তা করি, যাতে সবাই ভালো থাকতে পারি।"

রোববার (২১ জুন) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায় কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি-লা হোটেলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান[2][3]।

দেশের প্রতি কর্তব্যই হোক মূল ভাবনা

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে প্রবাসীদের অধিকারের পাশাপাশি কর্তব্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, "আজ আমাদের কী দাবি আছে, সেই চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে ভাবতে হবে দেশের প্রতি আমাদের কী কর্তব্য রয়েছে। দেশবাসীর পক্ষ থেকে আপনাদের কাছে আমার একটি অনুরোধ—আজ থেকে আমরা প্রত্যেকে চিন্তা করি, দেশের জন্য আমরা কী অবদান রাখতে পারি। এটাই হোক আমাদের আজকের মূল ভাবনা।"

স্বৈরাচারমুক্ত দেশ পুনর্গঠনে ঐক্যবদ্ধ আহ্বান

বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠী শুধু নিজেদের স্বার্থে সবকিছু ভোগ করেছে এবং দেশকে প্রায় ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। দেশের মানুষ বুকের রক্ত দিয়ে স্বৈরাচারমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এখন সবাইকে একসঙ্গে মিলে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে গড়ে তুলতে হবে।"

সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমুখী পরিকল্পনা

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী দেশ গঠনে তাঁর সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী 'ফ্যামিলি কার্ড', 'কৃষক কার্ড' ও 'খাল পুনঃখনন' কর্মসূচিসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা তিনি প্রবাসীদের সামনে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "বাংলাদেশের সামনে অত্যন্ত সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। তবে এর জন্য আমাদের কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্য ধারণ করতে হবে।"

শৃঙ্খলা ও স্বদেশে তার প্রয়োগ

কুয়ালালামপুরের পরিচ্ছন্ন সড়ক ও শৃঙ্খলার প্রশংসা করে তারেক রহমান বলেন, "এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে আমাদের বাংলাদেশি প্রবাসী ভাইয়েরাই বড় অবদান রাখছেন। তারা যদি বিদেশে এত সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তবে আমরা আমাদের নিজেদের দেশে কেন তা পারব না?"

প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির অবসান

১/১১ এবং পরবর্তী সময়ে নিজের ও পরিবারের ওপর হওয়া বিভিন্ন নিপীড়নের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এই মুহূর্তে আমাদের দল দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে এবং আমি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছি[4]। চাইলে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে আমি অনেক কিছুর প্রতিশোধ নিতে পারতাম। কিন্তু তাতে দেশের বা দেশের মানুষের কোনো কল্যাণ হবে না। তাই আমাদের সবাইকে প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে আজীবনের জন্য বেরিয়ে আসতে হবে।"

মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, তিনি সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তাঁকে প্রথম শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন[1]। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, "প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুযোগ-সুবিধা এবং সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করতে আমি মালয়েশিয়ার সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বিস্তারিত কথা বলব।"

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করীম[1]। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন[1][2]। দুই দিনের সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিনে সোমবার সকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে[2][5]।