৪ হাজার কিমি দূরে ইরানের হামলায় বদলে গেল যুদ্ধের সমীকরণ

অনলাইন ডেস্কঃ
Mar 22, 2026 - 16:41
৪ হাজার কিমি দূরে ইরানের হামলায় বদলে গেল যুদ্ধের সমীকরণ

ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি ‘দিয়েগো গার্সিয়া’ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরের এই ঘাঁটিতে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যভেদ করতে না পারলেও চলমান যুদ্ধের হিসাব-নিকাশ ও সমীকরণ পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে। 

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ওই ঘাঁটিতে দুটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই বিকল হয়ে যায়। অপরটিকে প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে 'এসএম-৩' ইন্টারসেপ্টর নিক্ষেপ করা হয়। তবে সেটি সফলভাবে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরের এই ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে ইরানের প্রকৃত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। কারণ, ইরান এতদিন দাবি করে আসছিল যে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা সর্বোচ্চ ২ হাজার কিলোমিটার। এমনকি গত মাসেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন, তেহরান স্বেচ্ছায় তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সীমা ২ হাজার কিলোমিটারে সীমিত রেখেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক এই হামলার পর তাদের সেই দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

এ বিষয়ে কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের লেকচারার মুহানাদ সেলুম সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন, "দিয়েগো গার্সিয়ায় এই হামলার অর্থ হলো—ইরানের কাছে ৪ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা আগে কখনও জনসমক্ষে প্রকাশ পায়নি। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যুদ্ধের হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে।"

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, "যদি এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর দিক পরিবর্তন করা হয়, তবে সেগুলো অনায়াসেই লন্ডন পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম। তাই এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের হিসাবই পাল্টায়নি, বরং যুদ্ধে জড়াতে অনিচ্ছুক যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্যও বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।"

মুহানাদ সেলুমের মতে, ইরানের কাছে সম্ভবত আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও (আইসিবিএম) রয়েছে, যা খোদ যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। কারণ, ইরান ইতোমধ্যেই তাদের মহাকাশ কর্মসূচির আড়ালে এ ধরনের প্রযুক্তির পরীক্ষা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow