আলোচনা চাইলে ইরানিরাই ফোন করুক: ডোনাল্ড ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্কঃ
Apr 27, 2026 - 11:10
আলোচনা চাইলে ইরানিরাই ফোন করুক: ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ইরান যদি আলোচনা করতে চায়, তবে তারা সরাসরি ফোন করতে পারে। তবে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছেন যে, কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। 

সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এসব কথা বলেন। এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানায় তেহরান। এর জেরে ট্রাম্প তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের পূর্বনির্ধারিত ইসলামাবাদ সফর বাতিল করেন। এতে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার আশা অনেকটাই ফিকে হয়ে যায়। 

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) যদি কথা বলতে চায়, তবে আমাদের কাছে আসতে পারে বা ফোন করতে পারে। আমাদের অত্যন্ত সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। তবে চুক্তির মূল শর্তটি তাদের জানা থাকা উচিত— কোনোভাবেই তাদের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না। এই শর্ত না মানলে আলোচনার কোনো অর্থই হয় না।’ দূতদের সফর বাতিল প্রসঙ্গে তিনি জানান, ইরানের প্রস্তাবগুলো যথেষ্ট সন্তোষজনক না হওয়ায় অযথাই সময় ও অর্থ ব্যয় করতে চাননি তিনি। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। এতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং চলমান যুদ্ধ অবসানের কথা বলা হয়েছে। তবে পারমাণবিক চুক্তির বিষয়টি আপাতত স্থগিত রেখে পরবর্তী ধাপে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ কিছুটা থমকে গেলেও নিজেদের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এরই মধ্যে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও ওমান সফর করেছেন। ওমানের সুলতান হাইসাম বিন তারিক আল-সাইদের সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বাইরের হস্তক্ষেপমুক্ত নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করেন। 

ওমান ও পাকিস্তান সফর শেষে বর্তমানে রাশিয়ায় অবস্থান করছেন আরাগচি। সেখানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি জানিয়েছেন, পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

দীর্ঘদিন ধরেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তেহরানের দাবি, তাদের এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। অন্যদিকে পশ্চিমাদের আশঙ্কা, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্যেই এগোচ্ছে। 

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে তেহরান মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা দাবি করেছে। 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি চরম আকার ধারণ করেছে মূল্যস্ফীতি, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও প্রবৃদ্ধিকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও স্থায়ী সমাধানের ক্ষেত্রে দুই পক্ষ এখনো কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow