এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
দেশের রেলখাতে গত ১৫ বছরে এক লাখ ২২ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিশাল বিনিয়োগ হয়েছে। নতুন রেললাইন নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে দেশ এগিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির মাঝে রয়ে গেছে বড় ধরনের ফারাক। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, বড় আড়ম্বরে ফিতা কেটে নতুন রেলপথ উদ্বোধনের পর সেখানে আর ট্রেন চলে না। ফলে বিশাল অঙ্কের এই বিনিয়োগ ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলো অনেক ক্ষেত্রেই ‘কাগুজে অগ্রগতি’ হিসেবে থেকে যাচ্ছে।
উন্নয়ন অবকাঠামো, কিন্তু নেই যানবাহন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেল উন্নয়নে গত এক দশকে রেকর্ড বিনিয়োগ সত্ত্বেও বর্তমানে দেশের প্রায় ৩১৬ কিলোমিটার রেলপথে কোনো ট্রেন চলাচল করে না। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলে ১৮০ কিমি এবং পশ্চিমাঞ্চলে ১৩৬ কিমি রেলপথ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও রেলপথের ওপর জন্মেছে ঘাস, কোথাও মরিচা ধরেছে মূল্যবান সরঞ্জামে।
যেখানে ট্রেন অধরা
উদ্বোধনের পর পর্যাপ্ত ট্রেন না চলার বড় উদাহরণগুলোর একটি দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ। ১১ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকায় নির্মিত এই রুটে ফিজিবিলিটি স্টাডিতে ২৩ জোড়া ট্রেন চালানোর সুপারিশ থাকলেও বর্তমানে চলছে মাত্র সামান্য কিছু ট্রেন। একই চিত্র ঈশ্বরদী-রূপপুর রেলপথের ক্ষেত্রেও; প্রায় ৩৩৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই রুটে একটি ট্রেনও এখন পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করেনি। এছাড়া পদ্মা সেতু-যশোর রুটসহ বিভিন্ন নতুন রুটেও সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ও বগির সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না।
জনবল ও যন্ত্রপাতির চরম সংকট
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, অবকাঠামো তৈরির বিপরীতে প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন, কোচ এবং দক্ষ জনবলের অভাবই এই সংকটের মূল কারণ। বর্তমানে রেলওয়ের ৪৭ হাজার ৭০৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২২ হাজার ৭৯০ জন। জনবল সংকটের কারণেই দেশের ১৩০টি রেলস্টেশন বন্ধ রাখতে হয়েছে। বিদ্যমান ২৯৪টি লোকোমোটিভের বেশিরভাগই মেয়াদোত্তীর্ণ এবং যাত্রীবাহী কোচগুলোর অবস্থাও নাজুক।
পরিকল্পনায় সমন্বয়হীনতা ও দায়বদ্ধতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেলের এই সংকটের মূলে রয়েছে পরিকল্পনার চরম সমন্বয়হীনতা। রেলপথ নির্মাণের সময় সমান্তরালভাবে ইঞ্জিন ও কোচ কেনার প্রকল্প নেওয়া হয়নি। এছাড়া বিদেশি ঋণের জটিলতা, ভূমি দখল এবং রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের অভাবে পুরোনো শাখা লাইনগুলো পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহমুদ ওমর ইমাম বলেন, "বিশাল বিনিয়োগ করার পরও অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারা হতাশাজনক। শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়, সেবার মান নিশ্চিত করতে প্রাইভেট অপারেটরদের সম্পৃক্ত করার মতো আধুনিক চিন্তা প্রয়োজন।"
কী বলছে কর্তৃপক্ষ?
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইঞ্জিন ও কোচ সংকটের বিষয়টি তারা স্বীকার করে। রেল সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, "আমরা দ্রুত নতুন লোকোমোটিভ ও ওয়াগন সংগ্রহের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছি। অব্যবহৃত রুটগুলো সচল করতেও পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে এবং কিছু জায়গায় কাজ চলমান রয়েছে।"
শেষ কথা
রেলখাতে শত হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। কিন্তু সেই বিনিয়োগের সুফল পেতে হলে শুধু নতুন রেলপথ তৈরিই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নিয়মিত ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করা, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং পুরোনো যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন। ফিতা কাটার উৎসবের চেয়ে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর সক্ষমতাই হওয়া উচিত উন্নয়নের আসল মাপকাঠি।
পিরোজপুর | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
পিরোজপুর | ২৬ এপ্রিল, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
মাগুরা | ৫ অক্টোবর, ২০২৪
রাজনীতি | ৮ জুন, ২০২৬
জাতীয় | ৮ জুন, ২০২৬
চট্টগ্রাম | ৮ জুন, ২০২৬
নওগাঁ | ৮ জুন, ২০২৬
ফরিদপুর | ৮ জুন, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।