মহান’ সংসদের মর্যাদা বাঁচাতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে, জামায়াত এমপির ভিডিও প্রসঙ্গে তাসনিম জারা

অনলাইন ডেস্কঃ
২২ জুলাই, ২০২৬ ৫:৩২ পিএম
শেয়ার করুন:
মহান’ সংসদের মর্যাদা বাঁচাতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে, জামায়াত এমপির ভিডিও প্রসঙ্গে তাসনিম জারা

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া বিতর্কিত ভিডিওর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। 

অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে ‘মহান সংসদ’-এর সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কলঙ্কমোচনে সহায়তা করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে ডা. তাসনিম জারা এসব কথা বলেন।

পোস্টে মেয়েটির সামাজিক ও আর্থিক অবস্থা তুলে ধরে তিনি লেখেন, “সিভি অনুযায়ী মেয়েটির বয়স মাত্র ১৮। এসএসসি শেষ করেই চাকরি খোঁজার পেছনে মূল কারণ যে পরিবারের চরম দারিদ্র্য, তা সহজেই অনুমান করা যায়। এই ধরনের দরিদ্র সংসারে একটা চাকরি কেবল একটি কাজ নয়; বরং অসুস্থ মায়ের ওষুধ, ছোট ভাইয়ের পড়ার খরচ কিংবা মাথার ওপরের ফুটো চাল মেরামতের একমাত্র অবলম্বন।”

চাকরিপ্রার্থীদের এমপিদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সংস্কৃতি এবং এই ঘটনার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি লেখেন, “আমাদের দেশে গরিব মানুষের চাকরির পেছনে একটাই পথ থাকে—লাইনে দাঁড়ানো এবং শেষ পর্যন্ত কোনো ক্ষমতাবান ব্যক্তির কাছে গিয়ে সুপারিশ নেওয়া। আশার আলো নিয়েই হয়তো পরিবারটি এলাকার সংসদ সদস্যের দ্বারস্থ হয়েছিল। সিভিতে সই পড়েছে, জোর সুপারিশও করা হয়েছে। কিন্তু সেই সুপারিশের বিনিময়ে মেয়েটিকে কী মূল্য দিতে হয়েছে, তা আমরা নিশ্চিত করে জানি না।”

তিনি আরও লেখেন, “যে সম্ভাবনাটি এখন সামনে এসেছে, তা কোনো সাধারণ ঘটনা বা কেলেঙ্কারি নয়। জামায়াতে ইসলামীর একজন সংসদ সদস্য নিজের পদের ক্ষমতা ব্যবহার করে চাকরির প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে এক অসহায় মেয়েকে অনৈতিক পরিস্থিতিতে ফেলেছেন কি না—সেই প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ সংসদের নেই।”

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠনের জোর দাবি জানিয়ে তাসনিম জারা বলেন, “সম্ভাবনা মানেই চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। তবে যে প্রাথমিক তথ্য সামনে এসেছে, তার ভিত্তিতে একটি সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে সত্য উন্মোচন করা উচিত। আর সংসদ যদি এ বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করে, তবে এটাই স্পষ্ট হবে যে—এই ব্যবস্থা দরিদ্র মানুষকে জিম্মি ও শোষণ করার জন্যই টিকিয়ে রাখা হয়েছে।”

ক্ষমতাবানদের সুপারিশ নির্ভর চাকরি ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে এনসিপির সাবেক এই নেত্রী জানান, প্রতিটি দলই নির্বাচনে দুর্নীতিমুক্ত দেশের প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু ক্ষমতার সইয়ে চাকরি পাওয়ার এই জিম্মিদশার সংস্কৃতি কখনই বদলায় না। বর্তমান ঘটনাটি সেই জিম্মিদশার ভয়াবহ পরিণতিই সবার সামনে উন্মোচিত করেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।