কালকিনিতে ১৪৮ প্রাথমিকে শিক্ষকসংকট চরমে: ব্যাহত পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজ

আলমাস বেপারী, কালকিনি প্রতিনিধি, মাদারীপুরঃ
২২ জুলাই, ২০২৬ ৭:০৯ পিএম
শেয়ার করুন:
কালকিনিতে ১৪৮ প্রাথমিকে শিক্ষকসংকট চরমে: ব্যাহত পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজ

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চরম শিক্ষকসংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১৪৮টি বিদ্যালয়ে ১১৭টি পদ শূন্য থাকার পাশাপাশি পিটিআই প্রশিক্ষণ ও মাতৃত্বকালীন ছুটির কারণে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে পাঠদান, শৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে মারাত্মক স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। দ্রুত পদায়ন না হলে প্রান্তিক এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন মারাত্মক সংকটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকেরা।

উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কালকিনির ১৪৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে মোট অনুমোদিত পদ ৯৩৬টি। দীর্ঘদিন অবসর, বদলি ও পদোন্নতির কারণে শূন্য পদ সৃষ্টি হলেও নতুন নিয়োগ না হওয়ায় সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে ৬৮টি প্রধান শিক্ষক ও ৪৯টি সহকারী শিক্ষকের পদসহ মোট ১১৭টি পদ পুরোপুরি শূন্য রয়েছে। 

এর পাশাপাশি বর্তমানে ২২ জন শিক্ষক পিটিআই প্রশিক্ষণে এবং ১২ জন শিক্ষক মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। স্থায়ী শূন্য পদের সঙ্গে এই ৩৪ জনের অনুপস্থিতি যুক্ত হওয়ায় কার্যত উপজেলার মোট পদের একটি বড় অংশ শিক্ষকশূন্য অবস্থায় রয়েছে। 

সরেজমিনে ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খাসেরহাট ও ডিগ্রিরচর ক্লাস্টারের প্রত্যন্ত ও চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে এই সংকট সবচেয়ে তীব্র। শিক্ষকস্বল্পতার কারণে অনেক বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। বাড়তি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না। ফলে একটি শূন্য পদের বিরূপ প্রভাব গিয়ে পড়ছে অন্যান্য শ্রেণির পাঠদানেও। 

শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। এতে প্রাথমিকে শিক্ষার সার্বিক মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

এ বিষয়ে কালকিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, "আইনি জটিলতার কারণে এতদিন প্রধান শিক্ষকের ৬৮টি পদ পূরণ করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে। নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে চরাঞ্চলবেষ্টিত খাসেরহাট ক্লাস্টারকে প্রথম এবং ডিগ্রিরচর ক্লাস্টারকে দ্বিতীয় অগ্রাধিকার দিয়ে তালিকা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া পিটিআই প্রশিক্ষণ ও মাতৃত্বকালীন ছুটির সংকটটি সাময়িক, স্থায়ী শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের চেষ্টা চলছে।"

কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি সাইফ উল আরেফিন বলেন, "আমাদের উপজেলায় ১৪৮টি বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নেই। প্রশিক্ষণ, ছুটি ও পদ শূন্য থাকার কারণে প্রায় এক-চতুর্থাংশ শিক্ষক কার্যত কর্মস্থলের বাইরে রয়েছেন। বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত শিক্ষক পদায়নের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।