‘মেটিকুলাস ডিজাইনে’ জাতীয় পার্টিকে হারানো হয়েছে: শামীম হায়দার পাটোয়ারী
জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী অভিযোগ করেছেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সরাসরি নির্দেশনায় এবং একটি ‘মেটিকুলাস ডিজাইনের’ (সুক্ষ্ম পরিকল্পনা) মাধ্যমে নির্বাচনী কারচুপি করে তাদের দলকে পরাজিত করা হয়েছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই বিস্ফোরক দাবি করেন।
**নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ**
শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, "অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনায় প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করেছে। জাতীয় পার্টি যেন একটি আসনেও জয়ী হতে না পারে এবং মোট ভোটের এক শতাংশও না পায়, সেজন্য একটি নীল নকশার নির্বাচন করা হয়েছে।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাপার শক্তিশালী আসনগুলোতেও পরিকল্পিতভাবে তাদের তৃতীয় অবস্থানে রাখা হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে জামানত বাজেয়াপ্ত দেখানো হয়েছে। পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোর ফলাফলের সঙ্গে এই ফলাফল পুরোপুরি অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বিস্ময়কর বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গাইবান্ধা-১ আসনের উদাহরণ টেনে জাপা মহাসচিব বলেন, "আমার নিজের আসনে মাত্র ৩৩ হাজার ভোট দেখানো হয়েছে। একটি কেন্দ্রে আমি মাত্র ১৩টি ভোট পেয়েছি, অথচ সেখানে আমার নিজস্ব পোলিং এজেন্টই ছিলেন ২৬ জন। কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে ব্যাপক ঘষামাজা ও কাটাকাটি পাওয়া গেছে।"
তিনি আরও বলেন, দেশব্যাপী অসংখ্য কেন্দ্রে জাতীয় পার্টিকে ‘শূন্য’ ভোট দেখানো হয়েছে। জাপার ভোট কেটে অন্য প্রার্থীর নামের পাশে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেখানে সুষ্ঠু ভোট হয়েছে সেখানে জয়ী প্রার্থীরা ৬০-৭০ হাজার ভোট পেয়েছেন, অথচ ইঞ্জিনিয়ারিং করা আসনগুলোতে প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা অস্বাভাবিকভাবে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার পর্যন্ত ভোট পেয়েছেন। শামীম হায়দার একে ‘আলাদিনের চেরাগের মাধ্যমে ভোট বাড়ানো’ বলে অভিহিত করেন।
প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, পোলিং এজেন্টদের ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে আগে থেকেই স্বাক্ষর নিয়ে রাখা হয়েছিল। নির্বাচনের আগে ব্যাপক ভোট কেনাবেচা হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। টিআইবি-র রিপোর্টের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, টিআইবি ‘জাল ভোটের’ কথা বললেও এই সামগ্রিক কারচুপি প্রশাসনিক সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব ছিল না।
নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জাপা মহাসচিব। তিনি দাবি করেন, গণভোটে ৭৩ লক্ষ ভোট বাতিল হওয়া অভূতপূর্ব এবং রহস্যজনক। গণভোটের সময় হ্যাঁ/না ভোট গণনার সময় এজেন্টদের থাকতে দেওয়া হয়নি এবং প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো ফলাফল তৈরি করেছেন। বিপুল পরিমাণ ‘না’ ভোট প্রমাণ করে যে, বর্তমান ব্যবস্থার প্রতি জনগণের সর্বজনীন সম্মতি নেই।
নির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানান শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাপার অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর শিকদার লোটন, ইমরান হোসেন মিয়া এবং মঈনুর রাব্বী রুম্মানসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ