বাংলাদেশ থেকে শিক্ষা নিন’, নির্বাচন কমিশনকে নজিরবিহীন আক্রমণ মমতার
বাংলাদেশে সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনের উদাহরণ টেনে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে (ইসিআই) তীব্র আক্রমণ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ‘শান্তিপূর্ণ ও আদর্শ’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ভারতের নির্বাচন কমিশনের উচিত প্রতিবেশী দেশ থেকে শিক্ষা নেওয়া।
বুধবার রাজ্য সচিবালয় নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন, বাংলাদেশ কত চমৎকার ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। অনেকে সেখানে সহিংসতার আশঙ্কা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু হয়েছে।’
ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, গণতান্ত্রিক দেশ হওয়া সত্ত্বেও ভারতের কমিশন বর্তমানে ‘হুমকি সংস্কৃতির’ মাধ্যমে গণতন্ত্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
সম্প্রতি ভারতের নির্বাচন কমিশন সাতজন আধিকারিককে বরখাস্ত করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যাঁদের বরখাস্ত করা হয়েছে, তাঁরা অত্যন্ত পরিশ্রমী। তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে রাজ্য সরকার তাঁদের পাশে আছে। জেলায় তাঁদের অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োগ করা হবে।’
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘ইআরও-দের (ERO) সাসপেন্ড করার পেছনে প্রকৃত কারণ কী? ভুল থাকলে রাজ্য সরকারকে জানানো যেত। কমিশন একতরফাভাবে তুঘলকি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের পর ভারতের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। আসানসোলের বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনায় ফেটে পড়েন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে জামায়াতঘেঁষা শক্তির জয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুশি হয়েছেন। তিনি আসলে জামায়াতের বি-টিম চালাচ্ছেন, তাই বাংলাদেশের ফলাফলে তিনি এত উচ্ছ্বসিত।’
অগ্নিমিত্রা আরও যোগ করেন, ‘নির্বাচন কমিশনের ওপর ক্ষোভ থাকলে তিনি আদালতে যেতে পারেন, কিন্তু এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য মেনে নেওয়া যায় না।’
অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী মন্তব্য করেছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের রাজনৈতিক জমি বাঁচাতে এখন অনুপ্রবেশকারী ও বিদেশি শক্তির ওকালতি করছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ক্ষমতার পটপরিবর্তন এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য সীমান্ত দুই পারের রাজনীতিতেই নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
What's Your Reaction?
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ