কুবি ছাত্রদলের বর্তমান কমিটিকে ‘আদুভাই’ কমিটি বলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রদলের বর্তমান কমিটিকে ‘আদুভাই’ কমিটি আখ্যা দিয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন সংগঠনের একাংশের কর্মীরা। সাম্প্রতিক হল দখলচেষ্টা ও হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা এ ঘোষণা দেন।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে সিট দখল ও বহিরাগত ওঠানোকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হল দখলচেষ্টার সময় শাখা ছাত্রদলের এক যুগ্ম আহ্বায়কসহ কয়েকজন নেতা-কর্মী নিজ দলের এক কর্মীর ওপর হামলা চালান। এতে অন্তত তিনজন শিক্ষার্থী আহত হন। হামলার ঘটনায় এক কর্মীর নাক ফেটে যায়।
ঘটনার পর শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংসদ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আতিককে সাংগঠনিক পদ থেকে দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। তবে এ পদক্ষেপকে ‘লোকদেখানো’ দাবি করে ক্ষুব্ধ একাংশের নেতাকর্মীরা বর্তমান কমিটিকে ‘আদুভাই’ কমিটি আখ্যা দিয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রদল কর্মী ও অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমেদ নিবিড় আতিকের স্থগিতাদেশ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের বর্তমান আদুভাই কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলাম। ক্যাম্পাসে আদুভাই দেখলেই প্রতিবাদ করবেন সবাই।”
তিনি অভিযোগ করেন, হামলার ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল খোঁজখবর নেয়নি এবং অভিযুক্তকে সাময়িক বহিষ্কার করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ‘আদুভাই’ সংশ্লিষ্ট কাউকে দেখলে তিনি ও তার পরিচিতরা ছাত্রদলের কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেবেন না বলেও ঘোষণা দেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সর্বশেষ ২০২১ সালের ১৬ জুন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির তৎকালীন সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে আহ্বায়ক এবং ইংরেজি বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের মোস্তাফিজুর রহমান শুভকে সদস্য সচিব করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ৩১ সদস্যের ওই কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সবিচসহ অধিকাংশ নেতার বর্তমানে নিয়মিত ছাত্রত্ব নেই। কয়েকজন পদের আশায় সান্ধ্যকালীন কোর্সে ভর্তি হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ছাত্রদল কর্মী মামুন রশিদ বলেন, “অছাত্র ছাত্রদল নেতা আতিকের হাতে আমার বন্ধুসহ আরও দুইজন হামলার শিকার হয়েছে। ছাত্রদলেও কি আগের মতো সেই লীগ কালচার চর্চা হচ্ছে? আর কত রক্ত দিলে আমরা সভ্য রাজনৈতিক দল পাবো? কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯টি ব্যাচ চলমান, অথচ আতিকুর রহমান ৮ ব্যাচের। ছাত্রদলে অছাত্রের কাজ কী? ছাত্রদল করবে রানিং স্টুডেন্টরা।”
আরেক কর্মী জহিরুল ইসলাম জয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে হামলার নিন্দা জানিয়ে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতি কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর হামলা কোনো ছাত্র সংগঠনের আদর্শ হতে পারে না এবং এতে ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
উক্ত হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে আরও রয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক ও ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তরিকুল এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিফাত।
ভুক্তভোগীরা হলেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মাজহারুল ইসলাম আবির, অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তোফায়েল আহমেদ নিবিড় এবং একই শিক্ষাবর্ষের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এআইএস) বিভাগের সৌরভ কাব্য। তারা সবাই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, “ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত। কেন্দ্রীয় সংসদ ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে।”
অবাঞ্ছিত ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, “দলের সিদ্ধান্ত ডেকোরাম অনুযায়ী হয়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেন। ভুক্তভোগীরা ক্ষুব্ধ হতে পারেন, তবে সেটি দলীয় সিদ্ধান্ত নয়। সংগঠন থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটিই আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত।”
তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে সংগঠনের কাজকর্ম পরিচালনায় এটি একটি শিক্ষণীয় বিষয়। কেউ যদি সীমা লঙ্ঘন করে, তাহলে আরও বড় ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।
What's Your Reaction?
আলী আকবর শুভ, কুবি প্রতিনিধি, কুমিল্লাঃ