জুলাই সনদই বর্তমান সরকারের আইনি ভিত্তি পাওয়ার একমাত্র চাবি: অ্যাডভোকেট আবু হেনা রাজ্জাকী
জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘নেক্সাস ডিফেন্স এন্ড জাস্টিস’ (Nexus Defence And Justice)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক গোলটেবিল সংলাপে বর্তমান সরকারের বৈধতা ও সাংবিধানিক সংকট নিয়ে কঠোর বক্তব্য রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং বাংলা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হেনা রাজ্জাকী।
‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ: আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এই সংলাপে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার সাংবিধানিকভাবে এক ধরণের ‘লকড’ বা অবরুদ্ধ অবস্থায় আছে এবং এই অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করা।
আবু হেনা রাজ্জাকী তার বক্তব্যে বলেন, “নির্বাচন কমিশনের দ্বিতীয়বার শপথ করানোর কোনো এখতিয়ার ছিল না। এটি সরকারের নির্দেশে একটি বেআইনি কাজ।” রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতিকে ৫২ ধারায় এমন কোনো ক্ষমতা দেওয়া হয়নি যার বলে তিনি এই ধরণের আদেশ দিতে পারেন। যে রাষ্ট্রপতি সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়েছিলেন, তিনি নিজেই আজ সংবিধান লঙ্ঘন করছেন।”
বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্দিষ্ট ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন না হওয়ায় বর্তমান সংবিধান কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “সংবিধান এখন একটি তালাবদ্ধ ঘরের মতো। এই ঘরে ঢোকার একমাত্র চাবি হলো ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’। এটিই এই সরকারকে একটি আইনি ও রাজনৈতিক ভিত্তি দিতে পারে। অন্যথায় সরকারের কোনো ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে না।”
সরকারের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আপনাদের যদি সাহস থাকে তবে সংবিধানে বর্ণিত বঙ্গবন্ধুর ছবি এবং স্বাধীনতার ঘোষক সংক্রান্ত বিতর্কের সমাধান করুন। কিন্তু আপনারা তা করছেন না কারণ আপনারা জানেন আপনারা অবৈধভাবে কাজ করছেন।” তিনি আরও বলেন, “সংসদে টু-থার্ড মেজরিটি থাকলেও আপনারা ভেতরে ভেতরে ঘামছেন। ইনটেনশনালি আপনারা বিরোধী দলকে বাইরে রাখছেন, যা শুভ লক্ষণ নয়।”
আবু হেনা রাজ্জাকী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জনগণের দাবি আদায়ে রাজপথে আন্দোলন হলে পুলিশ বা সেনাবাহিনী তাতে বাধা দেবে না। কারণ তাদের পরিবারও এই সমাজেরই অংশ।” তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “শান্তিপূর্ণভাবে এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাইলে সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে ধীরস্থিরভাবে কাজ করুন। উল্টাপাল্টা কিছু করবেন না, কারণ আইনি ভিত্তি ছাড়া টিকে থাকা অসম্ভব।”
সংলাপে ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেনের বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি উল্লেখ করেন, ১৮০ দিনের মধ্যে সংবিধান নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে না পৌঁছালে সরকারের মেয়াদ নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।
৪ এপ্রিল ২০২৬-এ আয়োজিত এই সংলাপে সভাপতিত্ব করেন নেক্সাস ডিফেন্স এন্ড জাস্টিস-এর প্রতিনিধিরা এবং উপস্থিত ছিলেন দেশের বিভিন্ন স্তরের আইনি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বক্তারা একমত হন যে, জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নই বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করার একমাত্র উপায়।
What's Your Reaction?
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ