হাজিরা খাতায় মা, ক্লাসে ছেলে: চাঁদপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিনব অনিয়ম
হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর থাকলেও শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত মা। তাঁর পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন সদ্য আলিম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া তাঁর কিশোর ছেলে। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৫২ নম্বর দক্ষিণ বদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন এক নজিরবিহীন অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত ওই শিক্ষিকার নাম ফাতেমা বেগম। অভিযোগ উঠেছে, কয়েক মাস ধরেই তিনি নিজে ক্লাস না নিয়ে তাঁর ছেলেকে দিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন। একজন সদ্য দাখিল পাস করা শিক্ষার্থী কীভাবে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করেন, তা নিয়ে অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ:
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষিকা ফাতেমা বেগম গত জানুয়ারি থেকে অসুস্থতার কারণে অনিয়মিতভাবে স্কুলে আসছেন। অসুস্থ থাকলেও তিনি সরকারি বিধি মোতাবেক কোনো ছুটি নেননি। বরং কৌশলে স্কুলে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে প্রস্থান করেন এবং তাঁর কিশোর ছেলেকে শ্রেণিকক্ষে পাঠিয়ে দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফাতেমা বেগমের এক প্রভাবশালী আইনজীবী আত্মীয় থাকায় দীর্ঘ দিন ধরে তিনি প্রশাসনিক তোয়াক্কা না করেই এমন অনিয়ম চালিয়ে আসছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক আক্ষেপ করে বলেন, "একজন অভিজ্ঞ শিক্ষকের জায়গায় এই বয়সের একটা ছেলে কী পড়াবে? এভাবে চললে আমাদের সন্তানদের শিক্ষার ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে।"
শিক্ষিকার বক্তব্য:
বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শিক্ষিকা ফাতেমা বেগম অসুস্থতার দোহাই দিয়ে বলেন, "আমার অসুস্থতার কারণেই ছেলে ক্লাস নিচ্ছে।" তবে সরকারি ছুটি না নিয়ে এভাবে প্রক্সি ক্লাস করানো যে নিয়মবহির্ভূত এবং স্পষ্ট প্রতারণা, তা সাংবাদিকদের সামনে স্বীকার করে নিয়ে তিনি বলেন, "এটি আমার ভুল হয়ে গেছে।"
কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া:
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারহানা আক্তারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে শিক্ষা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন সুলতানা জানান, প্রক্সি ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, "বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপপরিচালক মো. নূরুল ইসলামও চাঁদপুর জেলা কর্মকর্তাকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।
সরকারি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়মকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবকরা দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ