তামিলনাড়ুতে থালাপতি বিজয়ের অভিষেক কি কেবল সময়ের অপেক্ষা? যে কারণে আটকে আছে শপথগ্রহণ
তামিলনাড়ু, ভারত: ভারতের তামিলনাড়ুর দীর্ঘ ৬২ বছরের প্রথাগত রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছেন সুপারস্টার থালাপতি বিজয়। ডিএমকে (DMK) ও এআইএডিএমকে (AIADMK)-এর একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে এক নতুন ইতিহাসের সূচনা করেছেন তিনি। তার নবগঠিত রাজনৈতিক দল ‘তামিলগা ভেট্টি কাঝাগাম’ (টিভিকে) সাম্প্রতিক নির্বাচনে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
তবে নির্বাচনি মাঠে এই ‘ব্লকবাস্টার’ সাফল্যের পরও বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণের বিষয়টি এখনো অনিশ্চয়তার দোলাচলে আটকে আছে। বর্তমানে তার সরকার গঠনের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠতার সেই চিরচেনা ‘ম্যাজিক ফিগার’।
সংখ্যাতত্ত্বের মারপ্যাঁচে আটকে বিজয়
তামিলনাড়ু বিধানসভার মোট ২৩৪টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন। বিজয়ের নেতৃত্বাধীন জোটে বর্তমানে রয়েছেন ১১৬ জন বিধায়ক—যা প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে মাত্র ২ জন কম।
বিজয় নিজে দুটি আসনে জয়ী হওয়ায় তার দলের বর্তমান বিধায়ক সংখ্যা ১০৭। এর সঙ্গে বামপন্থী দল সিপিআই ও সিপিএমের ৪ জন এবং কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়কের সমর্থন যুক্ত হয়ে জোটের শক্তি দাঁড়িয়েছে ১১৬-তে। কিন্তু এই সামান্য ব্যবধানই এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজ্যপাল আর.ভি. আরলেকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনের লিখিত প্রমাণ বা চিঠি জমা না দেওয়া পর্যন্ত তিনি কাউকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন না।
ভিসিকে-র হাতেই কি ক্ষমতার চাবিকাঠি?
শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিস্থিতি বিজয়ের অনুকূলে মনে হলেও শেষ মুহূর্তে টিটিভি দিনাকরণের এএমএমকে এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ বিজয়কে সমর্থন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণ জটিল হয়ে ওঠে।
এখন সবটুকু নির্ভর করছে থিরুমভালভানের দল ‘বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচি’র (ভিসিকে) ওপর। তাদের হাতে থাকা ২ জন বিধায়কের সমর্থন পেলেই বিজয় ১১৮-র কোটা পূর্ণ করতে পারবেন। জানা গেছে, থিরুমভালভান বর্তমানে ডিএমকে নেতৃত্বের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন। তবে আজই তার সঙ্গে বিজয়ের একটি চূড়ান্ত বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
অপেক্ষায় তামিলনাড়ু
যদি ভিসিকে শেষ পর্যন্ত বিজয়ের জোটে যোগ দিতে রাজি হয়, তবেই তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয়ের শপথগ্রহণের পথ প্রশস্ত হবে। অন্যথায় একক বৃহত্তম দল হওয়ার পরও কেবল ২ জন বিধায়কের ঘাটতির কারণে বিজয়ের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
রূপালি পর্দার জনপ্রিয় এই নায়ক কি পারবেন পর্দার মতো বাস্তবের রাজনীতিতেও শেষ হাসি হাসতে? সেই উত্তর মিলবে থিরুমভালভানের দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ