ইরানে মার্কিন ‘আক্রমণ শেষ’, কেন পিছু হটছেন ট্রাম্প
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ‘আক্রমণাত্মক’ সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে এবং একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ‘দারুণ অগ্রগতি’ হয়েছে। তবে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা কেবল একটি ‘ন্যায়সংগত ও পূর্ণাঙ্গ’ চুক্তিই মেনে নেবে।
বুধবার বেইজিংয়ে চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠক শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “আলোচনায় আমরা আমাদের বৈধ অধিকার ও স্বার্থরক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমরা কেবল একটি ন্যায়সংগত ও সমন্বিত চুক্তিই গ্রহণ করব।” তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত সাময়িক বিরতি নিয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনই ট্রাম্পের এই পিছু হটার প্রধান কারণ। যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ভোটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ঘরোয়া রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত রাখতেই ট্রাম্প এখন যুদ্ধের বদলে আলোচনার পথে হাঁটছেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তির পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। প্রজেক্ট ফ্রিডম (নৌ-অভিযান) সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে, যাতে চুক্তিটি চূড়ান্ত করা যায় কি না তা দেখা যায়। তবে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকবে।”
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের ‘এপিক ফিউরি’ নামক আক্রমণাত্মক অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসকে জানিয়েছেন যে আমরা ওই ধাপটি সম্পন্ন করেছি। এটি এখন আর আক্রমণাত্মক নয়, বরং একটি প্রতিরক্ষামূলক অভিযান। এর অর্থ হলো—আমাদের ওপর আগে হামলা না হলে আমরা আর গুলি চালাব না।” রুবিওর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে তার লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং ইরানের অর্থনীতি এখন বিপর্যস্ত।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়। ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ মিশন বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খাচ্ছিল। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ও অভিযান স্থগিতের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ১.৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
যদিও ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে মার্কিন জাহাজে কোনো হামলা হলে ইরানকে কঠোর প্রতিশোধের মুখে পড়তে হবে, তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই পক্ষই একটি বড় ধরনের সংঘাত এড়িয়ে সমঝোতার টেবিলে বসার চেষ্টা করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ