এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে। সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভের পর প্রথমবারের মতো রাজ্যে সরকার গঠন করতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। রাজধানী কলকাতার সন্তান এবং জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত এই রাজ্যে জয়লাভকে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই ঘোষণা করেছেন, এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে তিনি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। তবে জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কে বসছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর মসনদে? বিজেপি কোনো নির্দিষ্ট মুখকে সামনে রেখে লড়াই না করায়, এই ‘কোটি টাকার প্রশ্ন’ এখন রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে ঘুরপাক খাচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে যে পাঁচজন নেতার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে, তারা হলেন:
১. শুভেন্দু অধিকারী: লড়াকু জননেতা
বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী পদের প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীকে। বিরোধী দলনেতা হিসেবে গত পাঁচ বছর তিনি রাজপথে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গেছেন। এবারের নির্বাচনে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক হিসেবে পরিচিত ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম—উভয় আসনেই জয়ী হয়েছেন। তবে দলের পুরনো নেতা ও আরএসএস (RSS) ঘনিষ্ঠ মহলে তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কিছুটা প্রশ্ন রয়েছে, কারণ তিনি মাত্র কয়েক বছর আগে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
২. স্বপন দাশগুপ্ত: শিক্ষিত বাঙালির ‘ভদ্রলোক’ মুখ
বিজেপির তাত্ত্বিক নেতা হিসেবে পরিচিত স্বপন দাশগুপ্ত বিলেতে শিক্ষিত এক প্রথিতযশা ইতিহাসবিদ ও সাংবাদিক। এবারের নির্বাচনে রাসবিহারী আসনে জয়ী হয়ে তিনি নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করেছেন। কলকাতার শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও ‘ভদ্রলোক’ শ্রেণির কাছে বিজেপির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে তাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হতে পারে। তবে মাঠপর্যায়ের সংগঠন পরিচালনায় অভিজ্ঞতার অভাব তার প্রতিকূলে যেতে পারে।
৩. শমীক ভট্টাচার্য: সংঘ পরিবারের বিশ্বস্ত মুখ
বিজেপির বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দলে একজন অত্যন্ত পরিশীলিত ও সহিষ্ণু নেতা হিসেবে পরিচিত। আরএসএসের সঙ্গে দীর্ঘ পাঁচ দশকের নিবিড় সম্পর্ক তাকে নেতৃত্বের দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে রাখছে। দলের ভেতর কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত না থাকায় তাকে ‘আপস প্রার্থী’ বা ‘কম্প্রোমাইজ ক্যান্ডিডেট’ হিসেবেও বিবেচনা করা হতে পারে। তবে তিনি বড় মাপের ‘মাস লিডার’ বা জননেতা নন—এমন একটি মতও প্রচলিত রয়েছে।
৪. অগ্নিমিত্রা পাল: নারী নেতৃত্বের জোরালো দাবি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পর বিজেপি কোনো নারীকেই রাজ্যের হাল ধরতে দিতে পারে, এমন গুঞ্জন জোরালো। সেক্ষেত্রে ফ্যাশন ডিজাইনার থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা অগ্নিমিত্রা পালের নাম উঠে আসছে। আসানসোলের বিধায়ক হিসেবে নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করা অগ্নিমিত্রা নারী ভোটারদের কাছেও বেশ গ্রহণযোগ্য। তবে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ঘাটতি তার বড় অন্তরায় হতে পারে।
৫. স্মৃতি ইরানি: দিল্লির চমক
বিজেপি যদি রাজ্যের বাইরে থেকে কাউকে এনে চমক দিতে চায়, তবে স্মৃতি ইরানি হতে পারেন অন্যতম পছন্দ। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সুবক্তা স্মৃতি নিজেকে ‘বাংলার মেয়ে’ হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং ঝরঝরে বাংলায় কথা বলতে পারেন। ২০১৪ ও ২০১৯ সালে লোকসভায় নিজের কৃতিত্ব প্রমাণ করা এই নেত্রী দলের হাইকমান্ডের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। যদিও ২০২৪-এর নির্বাচনে হারের পর তার রাজনৈতিক পুনর্বাসনের জন্য পশ্চিমবঙ্গকে বেছে নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
শেষ পর্যন্ত কার মাথায় উঠবে বিজয় তিলক, তা নির্ভর করছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও আরএসএসের সিদ্ধান্তের ওপর। বাংলার মানুষ এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তাদের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীকে দেখার জন্য।
জুলাই ২২, ২০২৬
আগস্ট ১, ২০২৬
মে ২৭, ২০২৬
নোয়াখালী | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
নোয়াখালী | ৭ আগস্ট, ২০২৬
ঢাকা | ৭ আগস্ট, ২০২৬
রাঙ্গামাটি | ৭ আগস্ট, ২০২৬
ফরিদপুর | ৭ আগস্ট, ২০২৬
ফরিদপুর | ৭ আগস্ট, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।