গাইড বই ও প্রাইভেট খরচে দিশেহারা অভিভাবকরা, সরকারের হস্তক্ষেপ চায় সাধারণ মানুষ
দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবকরা সন্তানদের লেখাপড়ার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে প্রতি বছর নতুন বই ও গাইড কেনা, প্রাইভেট টিউশন ফি এবং বিভিন্ন আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, একটি ছেলে ও একটি মেয়ের পড়াশোনা চালাতে তাকে প্রতিবছর বই ও গাইড কিনতেই প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ করতে হয়। পুরাতন বই বা গাইড ব্যবহার করার সুযোগ না থাকায় প্রতি বছর নতুন করে সবকিছু কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
এছাড়াও, প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা প্রাইভেট পড়াতে মাসে এক হাজার থেকে পনেরশো টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছেই প্রাইভেট না পড়লে শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত নম্বর পায় না।
শুধু তাই নয়, স্কুলে নিয়মিত উপস্থিত না থাকলে জরিমানাও গুনতে হয়, যা বছরে তিন থেকে চারশো টাকার মতো। সব মিলিয়ে শিক্ষার ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।
অভিভাবকরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন, শিক্ষাব্যবস্থায় গাইড বইয়ের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং প্রাইভেট টিউশন নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। পাশাপাশি, মেয়েদের জন্য পুনরায় বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এর আমলে মেয়েদের শিক্ষায় বিনা বেতনের সুযোগ চালু ছিল, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল বলে অনেকে মনে করেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
What's Your Reaction?
খোকসা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধিঃ