আগৈলঝাড়ায় ভুয়া শিক্ষার্থী বানিয়ে সাংবাদিকদের নামে জিডি করালেন পুলিশ।

মোঃ মনিরুজ্জামান, অগৈলঝরা প্রতিনিধি, বরিশালঃ
May 17, 2026 - 23:01
May 17, 2026 - 23:01
আগৈলঝাড়ায় ভুয়া শিক্ষার্থী বানিয়ে সাংবাদিকদের নামে জিডি করালেন পুলিশ।

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মাদক ব্যবসায়ীর তিন সহযোগীকে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পরে ভুয়া শিক্ষার্থী সাজিয়ে সাংবাদিকদের নামে থানায় জিডি করালেন পুলিশ। এঘটনায় মাদক মামলার বাদী এসআই মনির হোসেন ক্লোজ হলেও ঘটনা স্থলে যাওয়া এসআই ওমর ফারুক এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের আস্কর গ্রামের রিন্টু মোল্লার ছেলে মাদক ব্যবসায়ী শিবলী আহম্মেদসহ তার তিন সহযোগী নাইম মোল্লা, সাব্বির শাহ ও জিহাদ সরদারকে শনিবার (৯ মে) রাতে বারপাইকা স্টীল ব্রীজের উপর থেকে ধাওয়া করে দুইপিচ ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে এসআই মনির হোসেন। মাদক ব্যবসায়ী শিবলী আহম্মেদের বিরুদ্ধে এসআই মনির হোসেন বাদী হয়ে শনিবার ১০ মে সকালে মামলা দায়ের করে বরিশাল আদালতে প্রেরন করেন। মাদক ব্যবসায়ীর সহযোগী নাঈম মোল্লা, সাব্বির শাহ ও জিহাদ সরদারকে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেয় এসআই মনির হোসেন। এঘটনা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে ১২ মে রাতে এসআই মনির হোসেনকে আগৈলঝাড়া থানা থেকে ক্লোজ করে বরিশাল পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হলেও ঘটনাস্থলে যাওয়া এসআই ওমর ফারুক এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছে আগৈলঝাড়া থানায়। এঘটনায় ছেড়ে দেওয়া তিনজনকে শিক্ষার্থী বানিয়ে তাদের থানায় ডেকে এনে দুই সাংবাদিকদের নামে সাধারন ডায়েরী করেন পুলিশ।

সাংবাদিকরা সরেজমিন গিয়ে জানতে পারেন বাগধা ইউনিয়নের আস্কর গ্রামের মৃত.আক্কেল সরদারের ছেলে জিহাদ সরদার তিন বছর পূবেই লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছে। তার জন্য ২০০১ সালে একটি মেয়ে বিষপান করে মৃত্যু হয়েছিল। ওই মামলায় জিহাদ সরদার দীর্ঘদিন জেল খাটার পরে বর্তমানে জামিনে রয়েছে।

বারপাইকা গ্রামের আজিজুর রহমান মোল্লার ছেলে নাঈম মোল্লা কোন লেখাপড়াই করছেন না। সে মাছের গাড়ীর হেলপার হিসেবে কাজ করছেন। তাকেও জিডিতে শিক্ষার্থী বানানো হয়েছে।

তবে একই এলাকার আব্দুল মালেক শাহ’র ছেলে এসএম বাদশা শাহ বাদী হয়ে দুই সাংবাদিকের নামে থানায় সাধারন ডায়েরী করেছেন। তার ছেলেকে মাদক ব্যবসায়ীর সহযোগী হিসেবে মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ করার কারনে তার সুনাম ক্ষুন্ন করা হয়েছে। তবে বাড়িতে গিয়ে বাদশা শাহকে না পেয়ে তার স্ত্রী শাহিদা বেগমের সাথে কথা হয়। তিনি জানান আমার ছেলে ঢাকার মিরপুরে লেখাপড়া করেন। তবে কোন কলেজে লেখা-পড়া করে তা তিনি বলতে পারেননি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow