ফরিদপুরে স্ত্রীকে কুপিয়ে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখার দায়ে স্বামীর ১২ বছরের কারাদণ্ড

জেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
May 17, 2026 - 18:11
May 17, 2026 - 18:13
ফরিদপুরে স্ত্রীকে কুপিয়ে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখার দায়ে স্বামীর ১২ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের সদরপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে অমানবিক নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার মামলায় স্বামী নুরজামাল মিয়াকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আজ বুধবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত নুরজামাল মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ প্রহরায় তাকে জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, সদরপুর উপজেলার টেউটাখালী গ্রামের বাসিন্দা নুরজামাল মিয়ার সঙ্গে প্রায় আট বছর আগে বিয়ে হয় একই এলাকার মুর্শিদা বেগমের। বিয়ের পর থেকেই মাদকাসক্ত ও উচ্ছৃঙ্খল নুরজামাল বিভিন্ন অজুহাতে স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। সংসার চালানো ও নেশার টাকার জন্য তিনি মুর্শিদার বাবার বাড়ি থেকে দফায় দফায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা আদায় করেন। তবে এতেও তার যৌতুকের লোভ কমেনি।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ২৪ মে রাতে নুরজামাল পুনরায় ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। মুর্শিদা টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। একপর্যায়ে মুর্শিদা নিস্তেজ হয়ে পড়লে তিনি মারা গেছেন ভেবে তাকে ঘরের ভেতর অবস্থিত টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকির মধ্যে ফেলে রেখে নুরজামাল পালিয়ে যান। 

পরবর্তীতে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় মুর্শিদাকে উদ্ধার করে প্রথমে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

এই ঘটনায় ২০২৩ সালের ৪ জুন মুর্শিদা বেগমের বাবা ফজলু মোল্লা বাদী হয়ে সদরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নজরুল ইসলাম ওই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর নুরজামালকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন।

রায় পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী রতন সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "যৌতুকের জন্য নারীর ওপর নৃশংস নির্যাতনের বিরুদ্ধে এই রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই কঠোর দণ্ড দিয়েছেন। এর মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow