ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত, আহত আরও ২
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় আরও দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় কুমিল্লার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতরা হলেন—উপজেলার বাতানবাড়ি গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে মুরসালিন (২৪) এবং মধুপুর গ্রামের মৃত মহরম আলীর ছেলে নবীর হোসেন (৩০)। নিহতদের মধ্যে মুরসালিন স্থানীয় একটি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, শুক্রবার রাতে একদল যুবক চোরাচালানি পণ্য আনার উদ্দেশ্যে ধজনগর সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে চারজন গুলিবিদ্ধ হন। বিএসএফ সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় মুরসালিন ও নবীর হোসেনকে উদ্ধার করে ভারতের আগরতলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। বর্তমানে তাদের মরদেহ বিএসএফ ক্যাম্পে রয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন-৬০ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শরিফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "একদল যুবক অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার সময় বিএসএফের গুলির মুখে পড়ে। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে বিএসএফকে ইতোমধ্যে প্রটেস্ট নোট (প্রতিবাদলিপি) পাঠানো হয়েছে। মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে ফ্ল্যাগ মিটিং বা পতাকা বৈঠকের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।"
গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, "ধজনগর সীমান্ত এলাকাটি অপরাধপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। চোরাকারবারিরা প্রায়ই এই পথ ব্যবহার করে মাদকসহ বিভিন্ন পণ্য আনা-নেওয়া করে। ধারণা করা হচ্ছে, নিহতরা ওই সময় কোনো কাজে সীমান্তে গিয়েছিলেন।"
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছামিউল ইসলাম জানান, নিহত মুরসালিন একজন কলেজছাত্র ছিলেন। সীমান্তে অনাকাঙ্ক্ষিত এই মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দ্রুত মরদেহগুলো ফেরত পেতে প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ