অযত্ন-অবহেলায় ভাগাড়ে পরিণত সদরপুর স্টেডিয়াম: অস্তিত্ব সংকটে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গন
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রাণের স্পন্দন ‘সদরপুর স্টেডিয়াম’ এখন চরম অবহেলা ও অযত্নের শিকার। এক সময়ের মুখরিত এই খেলার মাঠটি এখন ময়লার ভাগাড় আর আগাছার জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। গ্যালারি জুড়ে বাঁশের স্তূপ, বড় বড় ঘাস আর যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা বর্জ্যের দুর্গন্ধে মাঠের পরিবেশ এখন বিষিয়ে উঠেছে। এমনকি ২০২৪ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক কর্তৃক স্থাপিত স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তরটিও এখন ময়লার স্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে।
শনিবার (০৯ মে) সকালে সরেজমিনে স্টেডিয়াম এলাকায় গিয়ে এক হতাশাজনক চিত্র পরিলক্ষিত হয়। মাঠের একাংশ এখন উন্মুক্ত শৌচাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যার তীব্র দুর্গন্ধে সাধারণ মানুষের চলাচল দায় হয়ে পড়েছে। এছাড়া মাঠের ভেতরে গড়ে ওঠা অবৈধ ঝুপড়ি দোকান এবং অপরিকল্পিত পানির কলের কারণে মাঠের বড় একটি অংশ কর্দমাক্ত ও খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাজারের সাথে কোনো সীমানা প্রাচীর না থাকায় পথচারী ও ব্যবসায়ীরা অনায়াসেই মাঠে ঢুকে পড়ছেন, যা মাঠের পরিবেশকে আরও কলুষিত করছে।
স্টেডিয়ামের এই দুরবস্থার মধ্যেও আশার আলো দেখাচ্ছেন স্থানীয় খেলোয়াড়রা। গত শুক্রবার একটি ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের লক্ষ্যে ‘সদরপুর খেলোয়াড় কল্যাণ কমিটি’র সদস্যরা নিজেরাই মাঠ পরিষ্কারের উদ্যোগ নেন। কমিটির সদস্য মাহফুজুল হক ও তার সঙ্গীরা কাঁচি ও ঝাড়ু হাতে মাঠে নেমে পড়েন আবর্জনা পরিষ্কার করতে। মাহফুজুল হক আক্ষেপ করে বলেন, "খেলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আমরা নিজেদের চেষ্টায় পরিষ্কার করছি। কিন্তু প্রশাসনের জোরালো হস্তক্ষেপ ছাড়া এই মাঠ রক্ষা করা সম্ভব নয়।"
মাঠের এই বেহাল দশা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রবীণ ও তরুণরা। প্রবীণ বাসিন্দা ইমারত হোসেন শৈশবের স্মৃতিচারণ করে বলেন, "এই মাঠটি ছিল আমাদের আনন্দ আর আড্ডার জায়গা। এখন যেভাবে এখানে অনাচার চলছে, তাতে মাঠের অস্তিত্বই হুমকির মুখে। ঐতিহ্যবাহী এই মাঠটি বাঁচাতে দ্রুত সরকারি পদক্ষেপ প্রয়োজন।" ফুটবল খেলোয়াড় ফাইজুল বলেন, "বাজারের লোকজনের অবাধ যাতায়াত আর কাদা-পানির কারণে আমাদের নিয়মিত অনুশীলন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।"
তবে মাঠটি সংস্কারের বিষয়ে আশার বাণী শুনিয়েছেন নবগঠিত সদরপুর খেলোয়াড় কল্যাণ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক একেএম আবু সাঈদ। তিনি বলেন, "স্টেডিয়ামের জরাজীর্ণ অবস্থা সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। বাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি সীমানা প্রাচীর ও প্রবেশ গেট নির্মাণের পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই অনুমোদিত হয়েছে। আমরা স্টেডিয়ামটিকে আধুনিকায়ন করে সদরপুরের ক্রীড়াঙ্গনের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।"
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের দাবি, দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে সদরপুরের তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও সুন্দর খেলার পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
What's Your Reaction?
নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ