থানচিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মৌলিক সেবা নিশ্চিতে প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

অনুপম মারমা, থানচি প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ৬:৩৯ পিএম
শেয়ার করুন:
থানচিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মৌলিক সেবা নিশ্চিতে প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

বান্দরবানের থানচি উপজেলায় দুর্গম পাহাড়ি ও সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এক প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় থানচি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়। হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘তহ্জিংডং’ এ সভার আয়োজন করে। 

তহ্জিংডংয়ের উপজেলা সমন্বয়কারী থুইসাচিং মারমার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফয়সাল।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ওয়াহিদ হোসেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শরীফুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হাসিফ হোসেন এবং থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকার।

সভায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে ‘বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনরক্ষাকারী সেবায় প্রবেশাধিকার ও ব্যবহার নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য, কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। 

প্রকল্পের আওতায় দুর্গম এলাকার ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী মারাত্মক ও মাঝারি অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের (SAM ও MAM) বিশেষ পুষ্টিসেবা প্রদান, কৃষি ও পশুপালনে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান, নিরাপদ সুপেয় পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা স্থাপনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফয়সাল বলেন, "ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে পাহাড়ি এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অনেক সময় মৌলিক সেবা থেকে পিছিয়ে থাকে। তাই তাদের দোরগোড়ায় সরকারি ও বেসরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই প্রকল্পের সুফল যেন প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত মানুষ পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শতভাগ স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।"

সভায় বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য, কৃষি ও জীবনমান উন্নয়নে সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ টেকসই পরিবর্তন আনতে পারে। 

সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, তহ্জিংডংয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মী এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।