সার্ভিসিংয়ের আড়ালে চোরাই সিন্ডিকেট
নীলফামারীর জলঢাকায় একটি মোটরসাইকেল সার্ভিসিং সেন্টারে অভিযান চালিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৩২টি চোরাই মোটরসাইকেল জব্দ করেছে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ওয়ার্কশপের মালিক ও তার ছেলেকে আটক করা হয়েছে।
রবিবার বিকালে উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের টেংগনমারী বাজারে এই অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার বিকালে টেংগনমারী বাজারের আব্বাস আলীর ওয়ার্কশপ ও তার ৩টি গোডাউনে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এ সময় সেখান থেকে ৮০ থেকে ১৫০ সিসি পর্যন্ত বিভিন্ন কোম্পানির দেশি-বিদেশি ৩২টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। চোরাই মোটরসাইকেল মজুতের অভিযোগে তাৎক্ষণিকভাবে ওয়ার্কশপের মালিক আব্বাস আলী ও তার ছেলে এলাম ইসলামকে আটক করা হয়। আটক আব্বাস আলী ওই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে।
এই অভিযানের নেপথ্যের তথ্য জানিয়ে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, "সম্প্রতি একাধিক মামলার আসামি ও কুখ্যাত মোটরসাইকেল চোর শাহিন ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে চারদিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে চক্রের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। তার দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতেই আব্বাস আলীর গোডাউনে এই সফল অভিযান চালানো হয়।"
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, আটক আব্বাস আলী দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেল সার্ভিসিংয়ের আড়ালে এই চোরাই সিন্ডিকেট চালিয়ে আসছিলেন। তিনি মূলত কম দামে চোরাই মোটরসাইকেল কিনে সেগুলোর যন্ত্রাংশ খুলে আলাদাভাবে বিক্রি করতেন।
ওসি আরও জানান, জব্দকৃত মোটরসাইকেলগুলোর ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর এবং অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রকৃত মালিকদের শনাক্ত করার পর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাড়িগুলো তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
What's Your Reaction?
হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, জলঢাকা প্রতিনিধি, নীলফামারীঃ