এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
নীলফামারীর জলঢাকায় গ্রামীণ ব্যাংকের গোলনা শাখা ব্যবস্থাপক হামিদুল হকের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার। শনিবার দুপুরে জলঢাকা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মর্জিনা খাতুন।
সংবাদ সম্মেলনে মর্জিনা খাতুন অভিযোগ করেন, তার স্বামী মো. আমজাদ হোসেন নীলফামারী সদর উপজেলার রামগঞ্জ বাজার শাখায় সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক হামিদুল হকের সাথে তাদের পারিবারিক সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে হামিদুল হক ব্যক্তিগত প্রয়োজন, জমি ক্রয়, বাড়ি নির্মাণ এবং অফিসের অডিট মেলানোর অজুহাতে মর্জিনা খাতুন, তার স্বামী ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে সর্বমোট ২৩ লাখ ৩১ হাজার ১৮ টাকা ধার হিসেবে গ্রহণ করেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, অভিযুক্ত হামিদুল হক ব্যাংকের অডিট চলাকালীন ক্যাশ ঘাটতি লুকাতে সহকর্মীদের কাছ থেকে টাকা নিতেন এবং ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে হিসাব সমন্বয় করতেন। এমনকি ব্যাংকের ব্যালেন্স সার্টিফিকেটেও গরমিল করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
মর্জিনা খাতুন দাবি করেন, কেবল তাদের পরিবারই নয়, হামিদুল হকের প্রতারণার শিকার হয়েছেন আরও অনেকে। তিনি ডাক্তার হামিদুল ইসলামের কাছ থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং লক্ষ্মীছাপ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রঞ্জিত কুমার রায়ের কিস্তির ৩৭ হাজার টাকা গ্রহণ করলেও তা ব্যাংকের হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারটি আরও জানায়, পাওনা টাকা ফেরত চাইলে হামিদুল হক ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমজাদ হোসেনকে নানাভাবে হয়রানি শুরু করেন। আমজাদ হোসেন দীর্ঘ ২৬ বছর (১৯৯৮ সাল থেকে) সুনামের সাথে চাকুরি করলেও, তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ সাজিয়ে শাস্তিমূলক বদলি ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বর্তমানে তাকে লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা এরিয়া অফিসে ওএসডি করে রাখা হয়েছে। অথচ গত বছরের ৯ ডিসেম্বর কর্মদক্ষতার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে অভিনন্দন পত্র পাঠিয়েছিল।
প্রতারণার প্রমাণ হিসেবে মর্জিনা খাতুন জানান, গত ২১ জানুয়ারি হামিদুল হক তার ব্যক্তিগত হিসাবের বিপরীতে ৯৩ হাজার ৫০০ টাকার একটি চেক (চেক নং- ৪৮৭৫২৮) প্রদান করেন, যা ব্যাংক থেকে ‘ডিজঅনার’ হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মর্জিনা খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, "চতুর এই ব্যবস্থাপক আমাদের সারা জীবনের সঞ্চয় হাতিয়ে নিয়ে এখন আমাদেরই নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিলেও তিনি প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত বাধাগ্রস্ত করছেন।"
ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার এবং দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবস্থাপক হামিদুল হকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শরাফত আলী সরু, জরিনা বেগম, ছমেদা বেগম, সাহিদা বেগম ও শাহরিয়ার নাফিজ।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাখা ব্যবস্থাপক হামিদুল হকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি স্বনামধন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই গুরুতর অভিযোগের দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি।
এপ্রিল ৩০, ২০২৫
মার্চ ২৮, ২০২৬
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
পিরোজপুর | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
পিরোজপুর | ২৬ এপ্রিল, ২০২৫
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ২৩ জুন, ২০২৬
নওগাঁ | ২৩ জুন, ২০২৬
নোয়াখালী | ২৩ জুন, ২০২৬
কুমিল্লা | ২৩ জুন, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।