বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ঠাঁই হচ্ছে আহমদ ছফার

অনলাইন ডেস্কঃ
May 11, 2026 - 14:31
বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ঠাঁই হচ্ছে আহমদ ছফার

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথাবিরোধী ও অন্যতম প্রভাবশালী বুদ্ধিজীবী আহমদ ছফার প্রয়াণের দুই যুগ পর তাঁকে যথাযথ সম্মান জানাতে উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। মিরপুরের সাধারণ কবরস্থান থেকে তাঁর মরদেহ সরিয়ে নিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থায়ীভাবে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ডিএনসিসির ১৪তম করপোরেশন সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়। সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আবেদনের প্রেক্ষাপট
চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি আহমদ ছফার পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র নূরুল আনোয়ার এই স্থানান্তরের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, রাজনীতি ও সমাজ গঠনে আহমদ ছফার অসামান্য অবদান থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় তাঁকে উপযুক্ত মূল্যায়ন করা হয়নি। সাধারণ কবরস্থানে দাফন করায় সময়ের পরিক্রমায় তাঁর সমাধিটি মুছে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাই তাঁর সৃষ্টি ও স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে যথাযোগ্য মর্যাদায় সমাহিত করা প্রয়োজন।

প্রক্রিয়া ও অনুমোদন
আবেদনটির গুরুত্ব বিবেচনা করে গত ১৩ এপ্রিল ডিএনসিসির সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং সর্বসম্মতিক্রমে তা অনুমোদিত হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছিল বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। বর্তমান সরকারের আমলে চূড়ান্ত অনুমোদনের মাধ্যমে সেই দাবি আজ বাস্তবায়নের পথে।

নূরুল আনোয়ার গণমাধ্যমকে বলেন, "আহমদ ছফার প্রয়াণের পর থেকেই আমাদের প্রাণের দাবি ছিল তাঁকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা। সাধারণ কবরস্থানে একটি নির্দিষ্ট সময় পর পুরাতন কবর ভেঙে নতুন কবর দেওয়া হয়। আমরা চেয়েছি দেশের এই শ্রেষ্ঠ সন্তানের কবরটি যেন স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাঁকে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার একটি পথ সুগম হলো।"

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে মৃত্যুবরণ করা আহমদ ছফাকে সে সময় মিরপুরের সাধারণ কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। দীর্ঘ ২৫ বছর পর তাঁর সমাধি স্থানান্তরের এই সিদ্ধান্তকে সাহিত্য ও সংস্কৃতি মহলে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow