ভাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধ: আদালতের ১৪৪ ধারা অমান্য করে কাজ চালানোর অভিযোগ, উত্তেজনা
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের বামনকান্দা গ্রামে বসতভিটার জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও শান্তি বজায় রাখতে বিজ্ঞ আদালত বিতর্কিত জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বাদীর অভিযোগ, আদালতের সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই প্রতিপক্ষরা সেখানে নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছে।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭৭ নম্বর বামনকান্দা মৌজার বিএস ১৬৪ নম্বর খতিয়ানের ৪৬৩ ও ৪৬৮ নম্বর দাগ এবং বিএস ১৬৬ ও ৪৬৫ নম্বর দাগসহ মোট ৫৪ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। মামলার বাদী আশরাফ মাতুব্বর দাবি করেন, তিনি ক্রয়সূত্রে মালিক হয়ে দীর্ঘ দিন ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।
সম্প্রতি প্রতিবেশী নান্নু শেখ ও জুয়েল শেখসহ কয়েকজন ওই জমি নিজেদের দাবি করে সেখানে ইট দিয়ে ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালান। এতে বাধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষরা সংঘবদ্ধ হয়ে চড়াও হয় বলে অভিযোগ করেন আশরাফ মাতুব্বর। জানমালের নিরাপত্তা ও স্বত্ব রক্ষায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হলে বিজ্ঞ আদালত ওই জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার (১৪৪ ধারা) আদেশ দেন।
আশরাফ মাতুব্বর অভিযোগ করে বলেন, “আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারির পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়ে আসে। কিন্তু প্রতিপক্ষরা আইনের তোয়াক্কা না করে এখনও সেখানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিপক্ষ নান্নু শেখ বলেন, “এটি আমার ক্রয়কৃত বৈধ সম্পত্তি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমার কাছে রয়েছে। আমি দীর্ঘ দিন ধরেই এটি ভোগদখল করছি। আদালতের প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা আছে এবং আমি কোনো আইন অমান্য করিনি।”
এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার এএসআই আজিজুর রহমান বলেন, “আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশ তৎপর রয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।”
এদিকে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
What's Your Reaction?
মোঃ সারোয়ার হোসেন, ভাঙ্গা, ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ