যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি: বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে ১৫ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি চুক্তির ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর তেলের দাম এক লাফে অন্তত ১৫ শতাংশ কমেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারে স্বস্তির আভাস দিচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ১৫.৯ শতাংশ কমে বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ৯২.৩০ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম ১৬.৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল দাঁড়িয়েছে ৯৩.৮০ ডলারে। তবে তেলের দাম কমলেও তা এখনো সংঘাত শুরুর আগের অবস্থার চেয়ে বেশি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার।
মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যে গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত দেন। তিনি জানান, ইরানের ওপর সম্ভাব্য বোমা হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করতে সম্মত হয়েছেন তিনি। তবে এর শর্ত হিসেবে ইরানকে অবিলম্বে এবং নিরাপদভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে। এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি না হলে ‘একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।’
ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ইরানের ওপর হামলা বন্ধ হলে তেহরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত থাকবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার হুমকিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, যা তেলের দামকে উসকে দেয়। এখন যুদ্ধবিরতির ফলে প্রণালিটি সচল হলে আটকে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলো পুনরায় চলাচল শুরু করতে পারবে। তবে তারা সতর্ক করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি বাজার পুরোপুরি স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা কম।
জ্বালানি বাজারের এই ইতিবাচক পরিবর্তন বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ কিছুটা কমাতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ