কানাডায় প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফেডারেল এমপি নির্বাচিত হলেন ডলি বেগম
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক ডলি বেগম দেশটির ফেডারেল রাজনীতিতে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়ে এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি এই অভাবনীয় কৃতিত্ব অর্জন করেন। তাঁর এই ঐতিহাসিক জয়ের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি কানাডার পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল, ২০২৬) কানাডার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেল আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অন্টারিওর ইউনিভার্সিটি-রোসডেল ও স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট এবং কুইবেকের তেরেবোন আসনে এই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনের জন্য বর্তমান পরিস্থিতিতে লিবারেলদের মাত্র একটি আসনে জয়ের প্রয়োজন ছিল।
উপনির্বাচনের আগে পার্লামেন্টে লিবারেলদের আসন ছিল ১৭১টি। সম্প্রতি কনজারভেটিভ দলের এমপি মেরিলিন গ্লাডু দল পরিবর্তন করে লিবারেল দলে যোগ দেওয়ায় তাদের অবস্থান মজবুত হয়। এরপর ডলি বেগমের এই জয়ের মধ্য দিয়ে লিবারেল পার্টির আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭৪-এ, যা তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা একদম পরিষ্কার করে দিয়েছে। এর ফলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির জন্য সংসদে আইন পাস করা এবং নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনেক সহজ হবে। আগামী ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত স্থিতিশীলভাবে সরকার পরিচালনা করতে পারবে লিবারেলরা।
কানাডার রাজনীতিতে ডলি বেগমের এই সাফল্য হঠাৎ করে আসেনি। ফেডারেল এমপি নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্টে টানা তিনবার এমপিপি পদে বিজয়ী হয়েছিলেন। টরন্টোর এই একই এলাকা থেকে নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) প্রার্থী হিসেবে ২০১৮ ও ২০২২ সালে নির্বাচিত হয়ে তিনি কানাডার তিন স্তরের সরকার পদ্ধতির যেকোনো আইন পরিষদে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিনিধি হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
চলতি বছরের শুরুতে লিবারেল দুর্গ হিসেবে পরিচিত স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনটি সাবেক মন্ত্রী বিল ব্লেয়ারের বিদায়ে শূন্য হয়ে যায়। এরপরই ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির হয়ে মনোনয়ন পান ডলি বেগম। দল পরিবর্তনের বিষয়ে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতি আস্থার কথা জানান।
ডলি বেগম বলেন, "আমি গত সাত বছর ধরে স্কারবোরো সাউথ-ওয়েস্টের মানুষের জন্য লড়াই করেছি। তবে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমার মনে হয়েছে, আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ার জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কাজ করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বে আমি সেই লক্ষ্য অর্জন করতে চাই।" তিনি আরও জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা এবং কানাডাকে একটি ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ নিতে তিনি প্রস্তুত।
নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্যকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, "ডলি বেগমের এই বিজয় তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, নেতৃত্ব এবং জনগণের প্রতি প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। তিনি নিজের কমিউনিটির উন্নয়নের জন্য সর্বদা কার্যকরভাবে লড়াই করে আসছেন। তাঁর অক্লান্ত কণ্ঠস্বর ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী ও আরও ন্যায়ভিত্তিক কানাডা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"
উল্লেখ্য, কানাডার রাজনীতিতে আলোড়ন তোলা ডলি বেগমের শেকড় বাংলাদেশের মৌলভীবাজারে। মনু নদের পাড়ে তাঁর পৈতৃক নিবাস। বাবা রাজা মিয়া এবং মা জবা বেগমের হাত ধরে মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি কানাডায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি যুক্তরাজ্যের বিশ্বখ্যাত ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) থেকে উন্নয়ন প্রশাসন ও পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ