বিশ্ববাজারে তেলের দাম পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ

অনলাইন ডেস্কঃ
২২ জুলাই, ২০২৬ ২:১০ পিএম
শেয়ার করুন:
বিশ্ববাজারে তেলের দাম পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ক্রমবর্ধমান আশঙ্কার পাশাপাশি লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীদের হুমকির মুখে একাধিক তেলবাহী ট্যাংকার পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারের লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুড ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)—উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামে বড় ধরনের লাফ দেখা যায়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.০০ ডলার বা ১.১ শতাংশ বেড়ে ৯২.০১ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ডব্লিউটিআই ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮২ সেন্ট বা ১.০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৫.১৬ ডলারে লেনদেন হতে দেখা যায়। আগের দিন মঙ্গলবারও পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে তেলের লেনদেন শেষ হয়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও রুট পরিবর্তন
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ধারাবাহিক বিমান হামলা এবং জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুই পথ—হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব দিয়ে নৌযান চলাচল মারাত্মক ঝুঁকি ও ক্ষতির মুখে পড়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যবর্তী ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। ফলে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালি সৌদি অপরিশোধিত তেল রপ্তানির মূল বিকল্প পথ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু হুথিদের সাম্প্রতিক হুমকির মুখে চীন ও ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া তিনটি বিশাল সৌদি তেল ট্যাংকার পথ বদলে ইয়েমেন উপকূল এড়িয়ে সুয়েজ খালের দিকে যেতে বাধ্য হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান আইএনজি (ING)-এর পণ্য কৌশলবিদরা জানিয়েছেন, জ্বালানিবাহী ট্যাংকারগুলোকে ঘুরে সুয়েজ খাল দিয়ে যাতায়াত করতে হওয়ার কারণে এশীয় দেশগুলোতে তেল পৌঁছাতে সময় বেশি লাগবে এবং একই সাথে পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।

কৃষ্ণ সাগর ও কাজাখস্তানের চিত্র
শুধু মধ্যপ্রাচ্যই নয়, কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলেও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার কারণে কৃষ্ণ সাগর টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কাজাখস্তান থেকে তেল পরিবহনকারী সংস্থা ‘কাস্পিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়াম’ (সিপিসি) সাময়িকভাবে তেল সরবরাহ স্থগিত রেখেছে। এই স্থাগিতাদেশ দীর্ঘায়িত হলে কাজাখস্তান তাদের তেল উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আইএনজি।

এদিকে আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক সংকটের মাঝেই আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট (এপিআই) জানিয়েছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল ও ডিস্টিলেটের মজুত কিছুটা বেড়েছে, তবে পেট্রোলের মজুত সামান্য হ্রাস পেয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।