আসামে ভয়াবহ বন্যায় এক দিনে ২১ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্কঃ
২২ জুলাই, ২০২৬ ৫:০১ পিএম
শেয়ার করুন:
আসামে ভয়াবহ বন্যায় এক দিনে ২১ জনের মৃত্যু

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে বন্যা পরিস্থিতি চরম রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যটিতে নতুন করে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে। রাজ্যটির ১৬টি জেলায় বর্তমানে ৫ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এএসডিএমএ) বিশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জেলাভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে শিবসাগর জেলায়। এছাড়া চরাইদেও জেলায় ৫ জন, গোলাঘাটে ২ জন এবং জোরহাটে ১ জন মারা গেছেন। 

বর্তমানে রাজ্যের ৪৪টি রাজস্ব সার্কেলের অধীন ৮৭২টি গ্রাম পানির নিচে রয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে শিবসাগর জেলায়, যেখানে প্রায় ৩ লাখ ৫৯ হাজার মানুষ প্লাবিত অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। এ ছাড়া জোরহাটে ৮৭ হাজার ও চরাইদেওয়ে ৭২ হাজারের বেশি মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান
বাস্তুচ্যুত ও আশ্রয়হীন মানুষের জন্য ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এএসডিএমএ জানিয়েছে, ১২ হাজারের বেশি মানুষের আশ্রয়ের জন্য ৭১টি ত্রাণ শিবির এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য ও সামগ্রী পৌঁছে দিতে ২০২টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র সক্রিয় রাখা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় উদ্ধারে ভারতীয় সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ (NDRF) ও এসডিআরএফ (SDRF)-এর একাধিক দল একযোগে কাজ করছে।

বিপজ্জনক গতিতে বাড়ছে নদ-নদীর পানি
উজানের ভারী বৃষ্টির কারণে নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শিবসাগরের প্রধান নদী দিখৌ ও দিসাং-এর পানি বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি নেমাটিঘাটে ব্রহ্মপুত্র, খোয়াং এলাকায় বুড়িডিহিং এবং গোলাঘাট ও নুমালিগড়ে ধানসিঁড়ি নদীর পানিও বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আগামী দু-একদিন ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে, যা বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে।

রেল যোগাযোগ বিপর্যস্ত
বন্যার পানিতে রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় পর পর দুই দিন ধরে বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের (এনএফআর) সিপিআরও কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানান, সুরক্ষার স্বার্থে সিমালুগুড়ি-নামতিয়ালি এবং সিমালুগুড়ি-সেলেনঘাট সেকশনে সব ধরনের ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য
পরিস্থিতি তদারকি করতে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে যাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি বলেন, “উজানে মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে সাম্প্রতিক এই বন্যা মানুষের জীবনে চরম দুর্ভোগ বয়ে এনেছে। ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম সরাসরি তদারক করতে আমি চরাইদেও, নাজিরা, শিবসাগর, সোনারি, জোরহাট ও টিওকের বন্যা উপদ্রুত এলাকা ও ত্রাণ শিবিরগুলো পরিদর্শনে যাচ্ছি।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।