দিল্লিতে বিক্ষোভ বাড়ছে, মেট্রো বন্ধ শহরজুড়ে রেড অ্যালার্ট

অনলাইন ডেস্কঃ
২২ জুলাই, ২০২৬ ৪:৪৮ পিএম
শেয়ার করুন:
দিল্লিতে বিক্ষোভ বাড়ছে, মেট্রো বন্ধ শহরজুড়ে রেড অ্যালার্ট

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা দাবিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আন্দোলন চরম আকার ধারণ করেছে। বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুরো শহরজুড়ে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে প্রশাসন। নিরাপত্তা বজায় রাখার অজুহাতে দিল্লি মেট্রোরেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) দিল্লির অন্তত ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে সাধারণ যাতায়াত ব্যবস্থা। 

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে ডিএমআরসি আগাম কোনো স্পষ্ট ঘোষণা ছাড়াই সেন্ট্রাল দিল্লির রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, মান্ডি হাউস, আইটিও এবং খান মার্কেটসহ ১৬টি মূল স্টেশন বন্ধের সিদ্ধান্ত জানায়। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আহ্বানে ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থল 'যন্তর মন্তর'-এ হাজার হাজার আন্দোলনকারী অনড় অবস্থান নিলে কর্তৃপক্ষ এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

সপ্তাহের কর্মব্যস্ত দিনে হুট করে মেট্রো সেবা বন্ধ করে দেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ নিত্যযাত্রী, চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীরা। চলতি সপ্তাহে এটি দ্বিতীয়বারের মতো মেট্রো অচলাবস্থার ঘটনা, যা জনসাধারণের ক্ষোভ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। লাইন সচল থাকলেও বন্ধ থাকা স্টেশনগুলোতে ট্রেন না থেমে পার হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। বাধ্য হয়ে অনেককে মাঝপথেই নেমে বিকল্প পথ খুঁজতে হচ্ছে।

সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এলাকার এক যাত্রী জানান, বন্ধ থাকা স্টেশন চত্বরের কাছে বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান দিতে থাকলে এক বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন।

হলুদ (ইয়েলো) লাইনের এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ট্রেনের ভেতরের স্পিকারে চালক হঠাৎ জানান, দিল্লি গেট ও খান মার্কেটের মধ্যবর্তী কোনো স্টেশনে ট্রেন থামবে না। কোনো আগাম বিজ্ঞপ্তি ছাড়া এভাবে মানুষকে মাঝপথে আটকে দেওয়া অত্যন্ত অমানবিক।"

বিকল্প হিসেবে বাস বা ক্যাব বেছে নিতে গিয়েও ভোগান্তির শেষ ছিল না। নেভিগেশন অ্যাপ ব্যবহার করেও অনেকে সময়মতো গাড়ি না পেয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। ফলে বাসস্ট্যান্ড ও অটোরিকশা কাউন্টারগুলোতে মাইলজুড়ে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এতে অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো পরীক্ষায় বা ক্লাসে অংশ নিতে পারেননি।

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে আকস্মিকভাবে ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দল কংগ্রেস। দলের জ্যেষ্ঠ নেতা প্রমোদ তিওয়ারি কেন্দ্র সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, "বিক্ষোভকারীদের জনস্রোত এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ দেখে মোদি সরকার চরম আতঙ্কে ভুগছে। মূলত পতনের ভয়েই সরকার এভাবে জনভোগান্তি বাড়িয়ে মেট্রো বন্ধের মতো অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।"

বর্তমানে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।