থানচিতে সেনাবাহিনীর মানবিক সহায়তা ও মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন: পাহাড়ের জনজীবনে স্বস্তির ছোঁয়া
বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম বাকলাই পাড়া এলাকায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উদ্যোগে বাকলাইপাড়া সাবজোনের আওতাধীন ১০টি পাড়ার বাসিন্দাদের মাঝে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ এবং বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মে ২০২৬ তারিখে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের রিজিয়ন কমান্ডার বাকলাইপাড়া আর্মি ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তাঁরা স্থানীয় পাড়াবাসীদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং তাদের অভাব-অভিযোগ ও বিভিন্ন চাহিদার কথা শোনেন। স্থানীয়দের জীবনমান উন্নয়নের সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই গত রবিবার (২৪ মে) এই বিশেষ সহায়তা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বাকলাইপাড়া সেনা সাবজোন ক্যাম্পে আয়োজিত এই কার্যক্রমে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে সোলার প্যানেল, সোলার ব্যাটারি, ১৫০টি চেয়ার এবং একটি সাউন্ড বক্স বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া সুপেয় পানির সংকট নিরসনে দুটি ৩০০ লিটারের পানির ট্যাংক এবং স্থানীয় গির্জা ও কিয়াং ঘরের সংস্কার কাজের জন্য ১৮ বান টিন প্রদান করা হয়।
একই সঙ্গে আয়োজিত মেডিক্যাল ক্যাম্পেইনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা স্থানীয়দের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন এবং বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ করেন। বিশেষ সহায়তার অংশ হিসেবে প্রাতা পাড়ার এতিম শিশু রোয়াল থান লিয়ান বম (পাথান বম) এবং শেরকর পাড়ার কারবারি তুমথম বমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিক ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাশিরাম পাড়ার ভক্তিরানি ত্রিপুরাকে তাঁর শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।
সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রাতা পাড়ার কারবারি পারকেলিং বম বলেন, “সেনাবাহিনী আছে বলেই আমরা পাহাড়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারছি। তারা সবসময় আমাদের সুখে-দুঃখে ছায়ার মতো পাশে থাকে। আজকের এই সোলার প্যানেল ও চিকিৎসা সহায়তা আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে দেবে।”
বাকলাই পাড়া আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার জানান, বম জনগোষ্ঠীর আবাসন, পুনর্বাসন, শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর। পাহাড়ি জনপদে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি এই উন্নয়নমূলক ও মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি নিরাপত্তা বিষয়ে সকলকে সচেতন ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
স্থানীয়রা মনে করছেন, দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠা এই মৈত্রীর বন্ধন শান্তি ও উন্নয়নের পথে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
What's Your Reaction?
অনুপম মারমা, থানচি প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ